:::::::::::::::::::::::::কাতালান সংকট:::::::::::::::::::
স্পেন থেকে পুরোপুরি পৃথক হতে ১ অক্টোবর, ২০১৭ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কাতালোনিয়া। পাল্টা জবাবে কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন জারি করেছে স্পেন। এর মধ্য দিয়ে কাতালোনিয়া সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দেখে নেওয়া যাক কাতালোনিয়া সংকটের পূর্বাপর—
**কাতালোনিয়া কোথায়?
স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিত্তশালী একটি অঞ্চল কাতালোনিয়া। জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। এর রাজধানী বার্সেলোনা। কাতালোনিয়ার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পার্লামেন্ট, জাতীয় পতাকা ও সংগীত আছে। এমনকি কাতালোনিয়ার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জন পরিষেবাগুলোও এই অঞ্চল নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। এই অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো।
**বিতর্ক কেন?
কেন্দ্রের বাধা উপেক্ষা করে ১ অক্টোবর গণভোটের আয়োজন করে কাতালোনিয়া। এতে ৯০ শতাংশ ভোটার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। এটি অনুমোদন করে কাতালোনিয়ার পার্লামেন্ট। স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই পার্লামেন্টকে বরখাস্ত করেছিল। স্পেন সরকার এই গণভোটকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করে এসেছে। এ থেকেই সংকটের শুরু।
ভোট দেওয়ার জন্য কাতালোনিয়ার অধিবাসীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া চেষ্টা করলে তাতে বাধা দিয়েছিল স্পেনের জাতীয় পুলিশ বাহিনী। কাতালান কর্তৃপক্ষের দাবি, গণভোটে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের কিছু কম মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। যদিও মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪৩ শতাংশ গণভোটে অংশ নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কাতালান পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। পার্লামেন্টে স্বাধীনতার পক্ষে ৭০টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে পড়ে ১০ টি।
ভোট দেওয়ার জন্য কাতালোনিয়ার অধিবাসীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া চেষ্টা করলে তাতে বাধা দিয়েছিল স্পেনের জাতীয় পুলিশ বাহিনী। কাতালান কর্তৃপক্ষের দাবি, গণভোটে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৯০ শতাংশের কিছু কম মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে। যদিও মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪৩ শতাংশ গণভোটে অংশ নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কাতালান পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। পার্লামেন্টে স্বাধীনতার পক্ষে ৭০টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে পড়ে ১০ টি।
**স্পেনের প্রতিক্রিয়া:
স্পেনের সরকার বারবারই বলছে যে, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে আয়োজিত ১ অক্টোবরের গণভোট অবৈধ ছিল। কাতালান পার্লামেন্টে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রশ্নে ভোট হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কাতালোনিয়া অঞ্চলে প্রত্যক্ষ শাসন জারি করার বিষয়টি স্পেনের সিনেট অনুমোদন করে। দেশটির সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে জারিও করা হয় প্রত্যক্ষ শাসন।
**এখন কী হবে? ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান কী?
এই সংকট সহিংস রূপ নেবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এটি যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও সামগ্রিকভাবে স্পেনকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সেটি নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। এতে করে ইউরোভুক্ত অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আর ব্রেক্সিটের (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পর আঞ্চলিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) আরেক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারণ ইইউ চায় না স্পেন থেকে বেরিয়ে স্বাধীন হোক কাতালোনিয়া।ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এই ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে অস্বীকার করেছে। কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে তারাও শঙ্কিত। কেননা এখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইহাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হবে। কেহ কেহ মনে করেন, কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবি ব্রেক্সিটের চাইতেও ভয়াবহ।
বর্তমানে জার্মানির বেভেরিয়া রাজ্য, যুক্তরাজ্যের স্কটল্যাণ্ড, বেলজিয়ামের ফ্লেমিস, ডেনমার্কের ফারো দ্বীপপুঞ্জ, ইতালির লমবারদি ও ভেনেতেত প্রভৃতি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়। অন্যদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সর্বশেষ চেক রিপাবলিকের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দক্ষিণপন্থীরা। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মনোভাবও একই। এইসকল জাতীয়তাবাদী ও দক্ষিণপন্থী নেতা ‘ইউরো জোন’ হইতে বাহির হইয়া আসিবার হুমকি দিতেছেন। ফলে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোপানলে পড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভাঙনের সুর প্রবল হতে প্রবলতর হতে পারে। এতে পশ্চিমা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলিয়া অনেকেই কাতালোনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পক্ষপাতী নয়।
বর্তমানে জার্মানির বেভেরিয়া রাজ্য, যুক্তরাজ্যের স্কটল্যাণ্ড, বেলজিয়ামের ফ্লেমিস, ডেনমার্কের ফারো দ্বীপপুঞ্জ, ইতালির লমবারদি ও ভেনেতেত প্রভৃতি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়। অন্যদিকে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সর্বশেষ চেক রিপাবলিকের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দক্ষিণপন্থীরা। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মনোভাবও একই। এইসকল জাতীয়তাবাদী ও দক্ষিণপন্থী নেতা ‘ইউরো জোন’ হইতে বাহির হইয়া আসিবার হুমকি দিতেছেন। ফলে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোপানলে পড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভাঙনের সুর প্রবল হতে প্রবলতর হতে পারে। এতে পশ্চিমা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলিয়া অনেকেই কাতালোনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পক্ষপাতী নয়।
*****বিবিসি,রয়টার্সহ বিভিন্ন পত্রিকা হতে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত
No comments:
Post a Comment