খাদ্যে ভেজাল - Jobs Study

Reliable and trusted site, most common questions for competitive exam-BCS Exam Preparation, Bank Exam Preparation, Govt Job Preparation, Private Jobs, NTRCA Exam Question Solution, University Admission Question, Non Cadre Exam Preparation, Primary School Teacher Exam Questions and Answer.

https://www.toprevenuegate.com/uy05hjthep?key=787ad49ab5c48d1e4b289e61ff5d6eae

Tuesday, May 14, 2019

খাদ্যে ভেজাল


প্রশ্ন : ‘খাদ্যে ভেজালের কারণ প্রতিকারনিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রচনা।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে প্রধান হলো খাদ্য।সুস্থ, সবল আর স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যে খাবার খায়, তা ভেজালবিহীন হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দিনের পর দিন ভেজাল খাদ্য খেয়ে জটিল মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
#কারণ::
দেশজুড়ে খাদ্যে ভেজালের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় যে নৈতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়, ভেজালবিরোধী আন্দোলনের অপর্যাপ্ততা এবং ক্রেতা-অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাই মূলত খাদ্যে ভেজালের কারণ। ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে মাছ-মাংস, ফলমূল, শাকসবজি তরিতরকারি সজীব সতেজ রাখা হয়, যা ওই সব খাদ্যদ্রব্যকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে। আর এসব কেমিক্যাল মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণ করে মানুষের কিডনি লিভার নষ্ট হচ্ছে, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে। বেশির ভাগ হোটেল, রেস্টুরেন্ট খাবারের দোকানে খাবারের মান খুবই খারাপ ভেজালযুক্ত। মোটকথা, আমাদের দেশে চলছে ভেজাল খাদ্যের মহোৎসব।
যদি অবস্থা চলতে থাকে, তবে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবতেই শরীর শিউরে ওঠে। অচিরেই যদি অবস্থার নিরসন করা না যায়, তবে এর চিত্র যে কত ভয়াবহ হবে, তা কল্পনাতীত।
বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের জন্য যে কোনো আইন প্রণয়ন হয়নি, তা নয়।বিশুদ্ধ খাদ্য বিল ২০০৫নামে একটি আইন করা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু দেশে খাদ্যে ভেজালের চিত্র যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, সেখানে এই আইন পর্যাপ্ত নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিয়ালের মাংস, হোটেলে মরা মুরগির মাংস খাইয়ে ধরা পড়েও অপরাধী পার পেয়ে যায়, আর আমরা যে তিমিরে আছি, সে তিমিরেই রয়ে গেছি। আসলে উন্নত দেশগুলোতে ক্রেতারা যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, তা আমাদের দেশে স্বপ্নের মতো মনে হয়।
#প্রতিকার:::
তবে বর্তমান সরকার খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে যে ভ্রাম্যমাণ আদালতব্যবস্থা চালু করেছে, তা সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে আদালত ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের অর্থদণ্ড কারাদণ্ড প্রদান করছে। ফলে খাদ্য উৎপাদকরা এখন অনেকটা সচেতন হয়ে উঠেছে।অতি সম্প্রতি হাইকোর্ট কর্তৃক 52 টি পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে , এতে করে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা সচেতন হবে বলে আশা করা যায়। একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী জাতি হিসেবে দাঁড়াতে হলে মানুষকে কর্মঠ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে, আর সেটি নিশ্চিত করতে পারে বিশুদ্ধ খাবার। তাই ক্রেতারা যদি তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন সংঘবদ্ধ হন, তবে উৎপাদনকারীরাও বাধ্য হবে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে। লক্ষ্যেবাংলাদেশ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন’, ‘ক্রেতাস্বার্থ সংরক্ষণ সমিতি’, সবার জন্য স্বাস্থ্য’—এই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সরকারি সদিচ্ছা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ঠা সততা যদি যোগ হয়, তবে আমাদের দেশের খাদ্যে ভেজালের চিত্র পরিবর্তিত হয়ে অচিরেই সুখকর চিত্রে পরিণত হবে বলে আশা করা যায়।

No comments:

Post a Comment