মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক প্রশ্নে নিম্নোক্ত Quote টি ব্যবহার করতে পারেন (সব প্রশ্নে নয়)। যাদের এটি মুখস্থ নাই, দ্রুত নিজেকে শুনিয়ে শুনিয়ে ৫-৬ বার পড়ে ফেলেন। আশা করি মুখস্থ হয়ে যাবে।
If Blood is the price of independence then Bangladesh has paid the highest price in history. London Times (1971)
.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার পূর্বে জহুর আহমেদ চৌধুরীকে একটি ম্যাসেজ পাঠান প্রচারের জন্য- (মুখস্থ রাখা প্রয়োজন, জায়গামতো কাজে লাগানোর জন্য)
“Pak army suddenly attacked EPR base at pilkhana, Rajarbag police line and killing citizens. Street battles are going on in every streets of Dacca, Chittagong. I appeal to the nations of the world for help. Our freedom fighters are gallantly fighting with the enemies to free the motherland. I appeal and order you all in the name of Almighty Allah to fight to the last drop of blood to liberate the motherland. Ask police, E.P.R, Bengal Regiment and Ansar to stand by you and to fight. No compromise, victory is ours. Drive out the last enemy from the holy soil of mohterland. Convey this message to Awamileague leaders, workers and other workers and lovers of freedom. May Allah bless you. Joy Bangla.”
.
এর পর ২৬ শে মার্চ গ্রেফতার হবার পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার ঘোষণাটি অবশ্যই ইংরেজিতে মুখস্থ করে ফেলবেন (কারণ, ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিল)।
.
‘This may be my last message from today Bangladesh in independent. I call upon to the people of Bangladesh, wherever you might be and with whatever you have to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and Final victory is achieved.
.
এবার আসুন গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলি। এই পোস্টে থাকছে ১০টি প্রশ্ন।
.
১। প্রশ্নঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় এবং কিভাবে ভূমিকা রাখে?
উত্তরঃ
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানের সৈন্যদের হাতে সকল রেডিও স্টেশন চলে যায়। চট্টগ্রামের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র হতে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরিত করে চট্টগ্রামরে কালুরঘাট প্রেরণ কেন্দ্রটিকে বেতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। এর নাম দেওয়া হয় “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র।” ১৯৭১ সালের ২৮ শে মার্চ ‘বিপ্লবী’ শব্দটি বাদ দিয়ে নামকরণ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ৩০ শে মার্চ হানাদার বাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে বেতার কেন্দ্রটি নিরব হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মে কলকাতার বালিগঞ্জে বেতার কেন্দ্রটি ২য় পর্যায়ে সম্প্রচার শুরু করে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকাসমূহ :
✸ স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র প্রচার করা হয়।
✸ চরমপত্র পাঠ করা হয়ঃ
ক) পরিকল্পনাঃ জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান ।
খ) স্থানীয় ঢাকাইয়া ভাষায স্ক্রিপ্ট লেখা ও উপস্থাপন করেন এম আর আখতার মুকুল ।
✸ জল্লাদের দরবার নামক অনুষ্ঠান প্রচার। জল্লাদের দরবারে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে কেল্লা ফতেহ খান চরিত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়।
✸ দেশাত্মবোধক গান প্রচার।
✸ বজ্রকণ্ঠ প্রচার করা হত। (স্বাধীনবাংলা বেতার কর্তৃক প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠান যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের অংশবিশেষ প্রচার করা হত)।
If Blood is the price of independence then Bangladesh has paid the highest price in history. London Times (1971)
.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার পূর্বে জহুর আহমেদ চৌধুরীকে একটি ম্যাসেজ পাঠান প্রচারের জন্য- (মুখস্থ রাখা প্রয়োজন, জায়গামতো কাজে লাগানোর জন্য)
“Pak army suddenly attacked EPR base at pilkhana, Rajarbag police line and killing citizens. Street battles are going on in every streets of Dacca, Chittagong. I appeal to the nations of the world for help. Our freedom fighters are gallantly fighting with the enemies to free the motherland. I appeal and order you all in the name of Almighty Allah to fight to the last drop of blood to liberate the motherland. Ask police, E.P.R, Bengal Regiment and Ansar to stand by you and to fight. No compromise, victory is ours. Drive out the last enemy from the holy soil of mohterland. Convey this message to Awamileague leaders, workers and other workers and lovers of freedom. May Allah bless you. Joy Bangla.”
.
এর পর ২৬ শে মার্চ গ্রেফতার হবার পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার ঘোষণাটি অবশ্যই ইংরেজিতে মুখস্থ করে ফেলবেন (কারণ, ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিল)।
.
‘This may be my last message from today Bangladesh in independent. I call upon to the people of Bangladesh, wherever you might be and with whatever you have to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and Final victory is achieved.
.
এবার আসুন গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলি। এই পোস্টে থাকছে ১০টি প্রশ্ন।
.
১। প্রশ্নঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কোথায় এবং কিভাবে ভূমিকা রাখে?
উত্তরঃ
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানের সৈন্যদের হাতে সকল রেডিও স্টেশন চলে যায়। চট্টগ্রামের কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র হতে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরিত করে চট্টগ্রামরে কালুরঘাট প্রেরণ কেন্দ্রটিকে বেতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। এর নাম দেওয়া হয় “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র।” ১৯৭১ সালের ২৮ শে মার্চ ‘বিপ্লবী’ শব্দটি বাদ দিয়ে নামকরণ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ৩০ শে মার্চ হানাদার বাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে বেতার কেন্দ্রটি নিরব হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মে কলকাতার বালিগঞ্জে বেতার কেন্দ্রটি ২য় পর্যায়ে সম্প্রচার শুরু করে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকাসমূহ :
✸ স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র প্রচার করা হয়।
✸ চরমপত্র পাঠ করা হয়ঃ
ক) পরিকল্পনাঃ জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান ।
খ) স্থানীয় ঢাকাইয়া ভাষায স্ক্রিপ্ট লেখা ও উপস্থাপন করেন এম আর আখতার মুকুল ।
✸ জল্লাদের দরবার নামক অনুষ্ঠান প্রচার। জল্লাদের দরবারে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে কেল্লা ফতেহ খান চরিত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়।
✸ দেশাত্মবোধক গান প্রচার।
✸ বজ্রকণ্ঠ প্রচার করা হত। (স্বাধীনবাংলা বেতার কর্তৃক প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠান যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের অংশবিশেষ প্রচার করা হত)।
২। প্রশ্নঃ ছয় দফাই কি স্বাধীনতার রূপরেখা ? অথবা, ছয় দফা কি অখণ্ড পাকিস্তানের প্রতি হুমকিস্বরুপ ছিল? অথবা, স্বাধীনতার বীজ মূলত কোন ঘটনার মধ্যে নিহিত ছিল?
উত্তরঃ ৬ দফার মধ্যেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ লুকিয়ে ছিল।
কারণঃ
প্রথমত, ছয় দফার স্বায়ত্বশাসনের দাবীর মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয় তা দমনের জন্য এর রূপকার জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে রুখে দিতে চায়।
.
দ্বিতীয়ত, বাঙালি জাতির প্রাণের স্পন্দন শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এগার দফা দাবী উত্থাপন করে। এই এগার দফার মধ্যেও ছয় দফাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আন্দোলন বেগবান হয়। অতঃপর ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণ-অভ্যত্থান ঘটায়। গণ-অভ্যত্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
কারণঃ
প্রথমত, ছয় দফার স্বায়ত্বশাসনের দাবীর মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয় তা দমনের জন্য এর রূপকার জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে রুখে দিতে চায়।
.
দ্বিতীয়ত, বাঙালি জাতির প্রাণের স্পন্দন শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এগার দফা দাবী উত্থাপন করে। এই এগার দফার মধ্যেও ছয় দফাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আন্দোলন বেগবান হয়। অতঃপর ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণ-অভ্যত্থান ঘটায়। গণ-অভ্যত্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
তৃতীয়ত, নতুন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান জনতার দাবীর মুখে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয় এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন দেয়। নির্বাচন দেয়ার উদ্দেশ্য অসৎ হলেও জনগণের রায়ে তাদের অশুভ চিন্তা বানচাল হয়।
.
চতুর্থত, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ৬ দফার আলোকে সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ দিকে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিতে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে থাকেন। এমতাবস্থায় ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে এবং ৭ ই মার্চে দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তৃতায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তির ডাক দেন।
.
পঞ্চমত, ২৫ শে ডিসেম্বর অ্যসেম্বলী আহ্বান করলেও তারা অপারেশন সার্চলাইট নামক বর্বরোচিত হামলা পরিচালনা করেন। এমতাবস্থায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ শে মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে এবং ২৬ শে মার্চ ১২:৪৫ ঘটিকায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিকামী মানুষ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।
.
৩। প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধ কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ। ১০ ই এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বলা হয়, এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সনের ২৬ শে মার্চ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলে গণ্য হইবে। এ ঘোষণাটি দেয়া হয় ২৬ শে মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কারনে। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ হবার শর্ত তিনটি । এক, স্বাধীনতার ঘোষণা, দুই. যুদ্ধ এবং তিন, আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সমাপ্তি। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চ জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে ।
.
৪। প্রশ্নঃ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ৪ টি শর্ত কি কি ছিল?
উত্তরঃ
ক) মার্শাল ল প্রত্যাহার করতে হবে।
খ) সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফরত নিতে হবে।
গ) খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
ঘ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্ত করতে হবে।
.
৫। প্রশ্নঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন কিভাবে পরিচালিত হয়?
উত্তরঃ ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেন, আগামী ৩ রা মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে। কিন্তু ১ লা মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে হরতাল আহ্বান করেন। জনগণের আন্দোলনে মুখে শাসকগোষ্ঠী ২ ও ৩ মার্চ সান্ধ্য আইন জারি করলে এবং জনগণ তা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভঙ্গ করে। পুলিশ নিরীত জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে ফলে বহু লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। জাতির পিতা ঘোষণা করেন, “খুনি ইয়াহিয়া সরকারের হটকারী ও পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ থেকে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকবে। কলকারখানা বন্ধ থাকবে, রেলগাড়ির চাকা বন্ধ থাকবে, খাজনা ট্যাক্স দেয়া চলবে না এবং অফিস আদালত ব্যাংক বন্ধ থাকবে।” জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে বাংলার এ মুকুটহীন সম্রাটের ডাকে সাড়া দেন। শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফুর্ত এ অসহযোগ আন্দোলেনের পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ২৫ শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের দিন ধার্য করেন।
.
৬। প্রশ্নঃ জয় বাংলা শ্লোগানের জন্ম হয় কিভাবে?
উত্তরঃ ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আহুত এক ছাত্রসভায় ততকালীন জিন্নাহ হলের ছাত্র আফতাব আহমেদ । সর্বপ্রথম জয় বাংলা বলেন। এরপর ১৯৭০ সালের জানুয়ারি মাসে পল্টনে আওয়ামী লীগের এক জনসভার মঞ্চের ব্যানারে জয় বাংলা লেখা ছিল। ওই সময় মঞ্চে উঠে সিরাজুল আলম খান কয়েকবার জয় বাংলা বলেন। এভাবে শ্লোগানটি ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । ১৯৭০ সালরে ৭ ই জুন এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি জয় বাংলা বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। তারপর থেকে জয় বাংলা শব্দটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
(তথ্য সূত্রঃ আমাদের উত্থান-পতন, মহিউদ্দনি আহমেদ)
.
৭। প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত কিভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ভারতের সহযোগীতাঃ
ক. প্রবাসী সরকার গঠনে সহায়তাঃ
৩ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাজউদ্দিনের আলোচনার পূর্বেই মিসেস গান্ধী লোকসভায় বক্তৃতায় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ভারত সরকারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য ভারতীয় সহায়তা সম্পর্কে আশার সঞ্চার করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তাজউদ্দিন বৈঠকের শুরুতে মিসেস গান্ধীকে অবহিত করেন যে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি ইতোমধ্যে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করে একটি সরকার গঠন করা হয়েছে। তাজউদ্দিনের এই উপস্থিত সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অসামান্য শক্তি সঞ্চারিত হয়। এপ্রিল মাসের শুরুতে তাজউদ্দিন-ইন্দিরার মধ্যে অনুষ্ঠিত দু’দফা বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের সাহায্য-সহযোগিতার প্রকৃতি ও ধরণ সম্পর্কে কতিপয় সিদ্ধান্ত হয়।
খ. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহঃ
বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও আবাসিত করার দায়িত্ব বিএসএফ-কে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাকামী ছাত্র-যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ ৯মে থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পশ্চিমবঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণের প্রায় ১০০টি ক্যাম্প এবং বাংলাদেশেও অনুরূপ প্রায় ২০০টি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাছাড়া ত্রিপুরা ও আসামে কিছু প্রশিক্ষণ শিবির ছিল যেখানে বিদেশী সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হতো না। প্রথামিক পর্যায়ে ৩০৩ রাইফেল ও সাবমেশিনগানকে সম্বল করে মুক্তিবাহিনী মাঠে নামে। পর্যাপ্ত অস্ত্রের অভাবে এপ্রিলের মাঝামাঝি মুক্তিবাহিনী তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। মুক্তিবাহিনীকে দেওয়ার জন্য উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় যুদ্ধোপকরণ কারখানায় উৎপাদিত অস্ত্র, গোলাবারুদে ভারতীয় চিহ্ন ব্যবহার করা হত না। যাতে করে পাকিস্তানিদের হাতে পড়লেও, ভারতীয় সহায়তার বিষয়টি প্রমাণিত না হয়। ভারতে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছোট অস্ত্র পাকিস্তানের হস্তগত হয়। হস্তগত অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে মার্কিন ৫৭ এমএম রিকোয়েলেস রাইফেল, পানির নিচে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহারের জন্য ব্রিটিশ মাইন, এছাড়া সোভিয়েত রাশিয়া, ইসরাইল, বেলজিয়াম এবং চেকোশ্লাভিয়া উদ্ভাবিত ভারতের তৈরি সেকেলে ও সাম্প্রতিক অস্ত্র ছিল।
.
চতুর্থত, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ৬ দফার আলোকে সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ দিকে স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিতে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে থাকেন। এমতাবস্থায় ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে এবং ৭ ই মার্চে দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তৃতায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তির ডাক দেন।
.
পঞ্চমত, ২৫ শে ডিসেম্বর অ্যসেম্বলী আহ্বান করলেও তারা অপারেশন সার্চলাইট নামক বর্বরোচিত হামলা পরিচালনা করেন। এমতাবস্থায় জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ শে মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে এবং ২৬ শে মার্চ ১২:৪৫ ঘটিকায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিকামী মানুষ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।
.
৩। প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধ কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ। ১০ ই এপ্রিল জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বলা হয়, এই ঘোষণাপত্র ১৯৭১ সনের ২৬ শে মার্চ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলে গণ্য হইবে। এ ঘোষণাটি দেয়া হয় ২৬ শে মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কারনে। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ হবার শর্ত তিনটি । এক, স্বাধীনতার ঘোষণা, দুই. যুদ্ধ এবং তিন, আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সমাপ্তি। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চ জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে ।
.
৪। প্রশ্নঃ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ৪ টি শর্ত কি কি ছিল?
উত্তরঃ
ক) মার্শাল ল প্রত্যাহার করতে হবে।
খ) সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফরত নিতে হবে।
গ) খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
ঘ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্ত করতে হবে।
.
৫। প্রশ্নঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন কিভাবে পরিচালিত হয়?
উত্তরঃ ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেন, আগামী ৩ রা মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসবে। কিন্তু ১ লা মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে হরতাল আহ্বান করেন। জনগণের আন্দোলনে মুখে শাসকগোষ্ঠী ২ ও ৩ মার্চ সান্ধ্য আইন জারি করলে এবং জনগণ তা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভঙ্গ করে। পুলিশ নিরীত জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে ফলে বহু লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ৩ মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। জাতির পিতা ঘোষণা করেন, “খুনি ইয়াহিয়া সরকারের হটকারী ও পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে আজ থেকে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকবে। কলকারখানা বন্ধ থাকবে, রেলগাড়ির চাকা বন্ধ থাকবে, খাজনা ট্যাক্স দেয়া চলবে না এবং অফিস আদালত ব্যাংক বন্ধ থাকবে।” জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে বাংলার এ মুকুটহীন সম্রাটের ডাকে সাড়া দেন। শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফুর্ত এ অসহযোগ আন্দোলেনের পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ২৫ শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের দিন ধার্য করেন।
.
৬। প্রশ্নঃ জয় বাংলা শ্লোগানের জন্ম হয় কিভাবে?
উত্তরঃ ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আহুত এক ছাত্রসভায় ততকালীন জিন্নাহ হলের ছাত্র আফতাব আহমেদ । সর্বপ্রথম জয় বাংলা বলেন। এরপর ১৯৭০ সালের জানুয়ারি মাসে পল্টনে আওয়ামী লীগের এক জনসভার মঞ্চের ব্যানারে জয় বাংলা লেখা ছিল। ওই সময় মঞ্চে উঠে সিরাজুল আলম খান কয়েকবার জয় বাংলা বলেন। এভাবে শ্লোগানটি ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । ১৯৭০ সালরে ৭ ই জুন এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি জয় বাংলা বলে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। তারপর থেকে জয় বাংলা শব্দটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
(তথ্য সূত্রঃ আমাদের উত্থান-পতন, মহিউদ্দনি আহমেদ)
.
৭। প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত কিভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ভারতের সহযোগীতাঃ
ক. প্রবাসী সরকার গঠনে সহায়তাঃ
৩ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাজউদ্দিনের আলোচনার পূর্বেই মিসেস গান্ধী লোকসভায় বক্তৃতায় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সমর্থন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ভারত সরকারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য ভারতীয় সহায়তা সম্পর্কে আশার সঞ্চার করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তাজউদ্দিন বৈঠকের শুরুতে মিসেস গান্ধীকে অবহিত করেন যে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পাশাপাশি ইতোমধ্যে শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করে একটি সরকার গঠন করা হয়েছে। তাজউদ্দিনের এই উপস্থিত সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অসামান্য শক্তি সঞ্চারিত হয়। এপ্রিল মাসের শুরুতে তাজউদ্দিন-ইন্দিরার মধ্যে অনুষ্ঠিত দু’দফা বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের সাহায্য-সহযোগিতার প্রকৃতি ও ধরণ সম্পর্কে কতিপয় সিদ্ধান্ত হয়।
খ. মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহঃ
বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও আবাসিত করার দায়িত্ব বিএসএফ-কে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাকামী ছাত্র-যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণ ৯মে থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পশ্চিমবঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণের প্রায় ১০০টি ক্যাম্প এবং বাংলাদেশেও অনুরূপ প্রায় ২০০টি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাছাড়া ত্রিপুরা ও আসামে কিছু প্রশিক্ষণ শিবির ছিল যেখানে বিদেশী সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হতো না। প্রথামিক পর্যায়ে ৩০৩ রাইফেল ও সাবমেশিনগানকে সম্বল করে মুক্তিবাহিনী মাঠে নামে। পর্যাপ্ত অস্ত্রের অভাবে এপ্রিলের মাঝামাঝি মুক্তিবাহিনী তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। মুক্তিবাহিনীকে দেওয়ার জন্য উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় যুদ্ধোপকরণ কারখানায় উৎপাদিত অস্ত্র, গোলাবারুদে ভারতীয় চিহ্ন ব্যবহার করা হত না। যাতে করে পাকিস্তানিদের হাতে পড়লেও, ভারতীয় সহায়তার বিষয়টি প্রমাণিত না হয়। ভারতে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ছোট অস্ত্র পাকিস্তানের হস্তগত হয়। হস্তগত অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে মার্কিন ৫৭ এমএম রিকোয়েলেস রাইফেল, পানির নিচে বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহারের জন্য ব্রিটিশ মাইন, এছাড়া সোভিয়েত রাশিয়া, ইসরাইল, বেলজিয়াম এবং চেকোশ্লাভিয়া উদ্ভাবিত ভারতের তৈরি সেকেলে ও সাম্প্রতিক অস্ত্র ছিল।
গ. শরণার্থীদের সহায়তাঃ পশ্চিম বাংলা, ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে মোট ৮২৯ টি শরণার্থী শিবিরে ৯৮,৯৯,৩০৫ জন শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দেয়।
.
ঘ. মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠনঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম বিশ্বের জোরালো সমর্থন ছিল পাকিস্তানের পক্ষে, এমন কী অপর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। এমনি পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে সরকারী, বে-সরকারী প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে, বাংলাদেশ সরকারকেও সহায়তা দেয় বিভিন্ন দেশে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ এবংপ্রধানমন্ত্রী মিসেস গান্ধী বহু রাষ্ট্র সফর করেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ও ভারতীয় ভূমিকার যথার্থতা ব্যাখ্যা করার জন্য ৬৭টি রাষ্ট্রে ১৮টি সরকারি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে ভারত সরকার। এর মধ্যে চারটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বের ছিলেন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী সরদার শরণ সিং। এছাড়াও ডিপ্লোম্যাটদের দ্বিতীয় আশ্রয়স্থল ছিল ভারত।
.
ঙ. রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতাঃ
ভারতের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁদের সহানুভূতি এবং সমর্থন বেশ জোরালোভাবে প্রকাশ করেন। স্মতব্য, ভারতের রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা জনগণের সহানুভুতি এবং প্রতিক্রিয়া একই সমান্তরালে প্রবাহিত হয়নি।সরকারি দল হিসেবে কংগ্রেসের ভূমিকা সূচনা লগ্নে ছিলঅনেকটা সতর্কতামূলক এবং রক্ষণশীল অন্যদিকে অধিকাংশরাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং উৎসাহব্যঞ্জক।.
.
৮। প্রশ্নঃ বাংলাদেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ কে কেন করেন?
উত্তরঃ বাংলা, বাঙালীর কৃষ্টি এবং ইতিহাস রক্ষায় যিনি সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত কথা বলনে, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু শহীদ সাহেবকে বলেন, “স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ববাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রস্তাবটা গঠনতন্ত্রে অন্তভুক্ত হতে পারে। আপনারা এই প্রশ্নটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলাভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্নটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধেই বা কি ভাবছেন? পূর্ববাংলার জনগণ অন্যান্য প্রশ্নগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রশ্নটাকে বিবেচনা করতে স্থপতি। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, বহুবছরের এ স্মৃতি বিজড়িত নাম বাংলা সাংবিধানিক ভাবে ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর এই দাবীকে অগ্রাহ্য করেই পাকিস্তানী শাষক গোষ্ঠি বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান ডাকতে থাকে। অনেক বছর পরে, প্রহসনমূলক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাবার পরে বঙ্গবন্ধু এই বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য প্রথম পদক্ষেপ গ্রহন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার মাজার প্রাঙ্গনে দাড়িয়ে ঘোষণা করেন – আর পূর্ব বাংলা নয়, পূর্ব পাকিস্তান নয়, জনগণের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে বাঙ্গালি জাতির এ আবাসভূমির নাম হবে “বাংলাদেশ”।
.
৯। প্রশ্নঃ মুজিবনগর সরকার গঠনের কারণগুলো কী কী?
উত্তরঃ
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে বাস্তবায়ন করা এবং এর আনুষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক রূপ প্রদান করা।
খ) মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠু ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে দ্রত দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করা।
গ) মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
ঘ) প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে পাকিস্তানি হানাদার নারকীয় হত্যাকান্ড, ধ্বংসলীলা ও নির্যাতন, নিপীড়ন সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং বাংলদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করা।
ঙ) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশের দালালদের অত্যাচারে ভারতে চলে যাওয়া শরণার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।
চ) আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও বিদেশি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন এবং সাহায্য-সহযোগিতা লাভ করা।
.
১০। প্রশ্নঃ সপ্তম নৌবহর কখন এবং কেন বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করে?
উত্তরঃ ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ করলে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে পাকিস্তানের পতন আসন্ন হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের পতন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আমেরিকা ভারত ও বাংলাদেশকে চাপে ফেলার জন্য বঙ্গোপসাগরে তাদের ‘সপ্তম নৌবহর’ পাঠায়। তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলছিল আর সপ্তম নৌবহর ভিয়েতনামের টাংকিং উপসাগরে অবস্থান করছিল। টাংকিং উপসাগর থেকে সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে। এ বহরের প্রধান জাহাজ ছিল USS Enterprise (CVN -65). রাশিয়া ৮ম নৌবহর প্রেরণ করলে সপ্তম নৌবহর ফিরে যায়।
.
ঘ. মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সংগঠনঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম বিশ্বের জোরালো সমর্থন ছিল পাকিস্তানের পক্ষে, এমন কী অপর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নও জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। এমনি পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে সরকারী, বে-সরকারী প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে, বাংলাদেশ সরকারকেও সহায়তা দেয় বিভিন্ন দেশে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য, বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ এবংপ্রধানমন্ত্রী মিসেস গান্ধী বহু রাষ্ট্র সফর করেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা ও ভারতীয় ভূমিকার যথার্থতা ব্যাখ্যা করার জন্য ৬৭টি রাষ্ট্রে ১৮টি সরকারি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে ভারত সরকার। এর মধ্যে চারটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বের ছিলেন বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী সরদার শরণ সিং। এছাড়াও ডিপ্লোম্যাটদের দ্বিতীয় আশ্রয়স্থল ছিল ভারত।
.
ঙ. রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতাঃ
ভারতের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁদের সহানুভূতি এবং সমর্থন বেশ জোরালোভাবে প্রকাশ করেন। স্মতব্য, ভারতের রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা জনগণের সহানুভুতি এবং প্রতিক্রিয়া একই সমান্তরালে প্রবাহিত হয়নি।সরকারি দল হিসেবে কংগ্রেসের ভূমিকা সূচনা লগ্নে ছিলঅনেকটা সতর্কতামূলক এবং রক্ষণশীল অন্যদিকে অধিকাংশরাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং উৎসাহব্যঞ্জক।.
.
৮। প্রশ্নঃ বাংলাদেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ কে কেন করেন?
উত্তরঃ বাংলা, বাঙালীর কৃষ্টি এবং ইতিহাস রক্ষায় যিনি সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত কথা বলনে, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু শহীদ সাহেবকে বলেন, “স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ববাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রস্তাবটা গঠনতন্ত্রে অন্তভুক্ত হতে পারে। আপনারা এই প্রশ্নটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলাভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্নটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধেই বা কি ভাবছেন? পূর্ববাংলার জনগণ অন্যান্য প্রশ্নগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রশ্নটাকে বিবেচনা করতে স্থপতি। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, বহুবছরের এ স্মৃতি বিজড়িত নাম বাংলা সাংবিধানিক ভাবে ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর এই দাবীকে অগ্রাহ্য করেই পাকিস্তানী শাষক গোষ্ঠি বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান ডাকতে থাকে। অনেক বছর পরে, প্রহসনমূলক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাবার পরে বঙ্গবন্ধু এই বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য প্রথম পদক্ষেপ গ্রহন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার মাজার প্রাঙ্গনে দাড়িয়ে ঘোষণা করেন – আর পূর্ব বাংলা নয়, পূর্ব পাকিস্তান নয়, জনগণের পক্ষে আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে বাঙ্গালি জাতির এ আবাসভূমির নাম হবে “বাংলাদেশ”।
.
৯। প্রশ্নঃ মুজিবনগর সরকার গঠনের কারণগুলো কী কী?
উত্তরঃ
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে বাস্তবায়ন করা এবং এর আনুষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক রূপ প্রদান করা।
খ) মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠু ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে দ্রত দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করা।
গ) মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
ঘ) প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে পাকিস্তানি হানাদার নারকীয় হত্যাকান্ড, ধ্বংসলীলা ও নির্যাতন, নিপীড়ন সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং বাংলদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করা।
ঙ) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশের দালালদের অত্যাচারে ভারতে চলে যাওয়া শরণার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।
চ) আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও বিদেশি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন এবং সাহায্য-সহযোগিতা লাভ করা।
.
১০। প্রশ্নঃ সপ্তম নৌবহর কখন এবং কেন বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করে?
উত্তরঃ ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ করলে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফলে পাকিস্তানের পতন আসন্ন হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের পতন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে আমেরিকা ভারত ও বাংলাদেশকে চাপে ফেলার জন্য বঙ্গোপসাগরে তাদের ‘সপ্তম নৌবহর’ পাঠায়। তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলছিল আর সপ্তম নৌবহর ভিয়েতনামের টাংকিং উপসাগরে অবস্থান করছিল। টাংকিং উপসাগর থেকে সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে। এ বহরের প্রধান জাহাজ ছিল USS Enterprise (CVN -65). রাশিয়া ৮ম নৌবহর প্রেরণ করলে সপ্তম নৌবহর ফিরে যায়।
No comments:
Post a Comment