ভূরাজনীতি (ভারত VS চীন) - Jobs Study

Reliable and trusted site, most common questions for competitive exam-BCS Exam Preparation, Bank Exam Preparation, Govt Job Preparation, Private Jobs, NTRCA Exam Question Solution, University Admission Question, Non Cadre Exam Preparation, Primary School Teacher Exam Questions and Answer.

https://www.toprevenuegate.com/uy05hjthep?key=787ad49ab5c48d1e4b289e61ff5d6eae

Tuesday, May 14, 2019

ভূরাজনীতি (ভারত VS চীন)

ভূরাজনীতি বঙ্গোপসাগর(ভারত VS চীন)
===============================

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ভূরাজনীতি। ভূরাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Geopolitics যা দুটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে,যার একটি হলো Ge, যার অর্থ Land/Earth অন্যটি হলো Politike যার অর্থ Politics. সহজ কথায় ভূখন্ড কে কেন্দ্র করে যে রাজনীতি তাই ভূরাজনীতি। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের ভৌগোলিক প্রয়োজন(যেমন: সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,নিজ ভূখন্ড থেকে জলরাশি দিয়ে বের হবার জন্য জলরাশির উপর কর্তৃত্ব সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রাকৃতিক কারনে বিচ্ছিন্ন করা যায় না এমন কোন ভূখন্ড কে নিজের করে নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ) এবং ভৌগোলিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে যে রাজনীতি বিশেষত যে পররাষ্ট্রনীতি গড়ে ওঠে তাই ভূরাজনীতি।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ। বাংলাদেশের তিন দিক দিয়ে রয়েছে তার বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং একদিক দিয়ে বঙ্গোপসাগর থাকায় তার অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।যার ফলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বৈশ্বিক পরাশক্তির অর্থনৈতিক মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে। যেহুতু ভারত বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী দেশ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর দেশ তাই বাংলাদেশ যখন পৃথিবীর অন্য কোন অর্থনৈতিক,বানিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি কিংবা পররাষ্ট্রনীতি প্রনয়ন করতে যায় তখন ভারতের সুবিধা-অসুবিধা মাথায় রেখে প্রনয়ন করতে হয়,কারন আমাদের চুক্তি,অর্থনৈতিক বানিজ্যিক সহযোগিতা কিংবা পররাষ্ট্রনীতির কারনে ভারতের অসুবিধা হলে ভারত সেটা কোনভাবেই মেনে নিবে না ফলে বাংলাদেশ ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বানিজ্যিক এমনকি নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। এখানে আমরা একটি ঘটনা উল্লেখ করতে পারি-
২০১৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করেন সেই সফরে সোনাদিয়াতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের ব্যাপারে চীনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক(MOU) সাক্ষর করার ব্যাপারে প্রায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিলো কিন্তু একটি বিশ্বশক্তি একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি রাষ্ট্রের আপত্তির কারনে বাংলাদেশ এই সমঝোতা স্বাক্ষর থেকে সরে আসে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি চীন এবং ভারত ক্রমান্বয়ে এশিয়াকে ছাপিয়ে বাইরে তারা আধিপত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন চীন আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে একটি সামরিক ঘাঁটি গড়েছে ২০১৭ সালের শেষের দিকে এবং ভারত এরই ফলশ্রুতিতে সিসেলিচ একটি সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুুুুললো ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। অর্থাৎ আফ্রিকাতে চীন এবং ভারত তারা তাদের স্বীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য যে প্রতিযোগিতামূলক নীতি গ্রহন করে চলেছে এটাই আফ্রিকাতে চীন-ভারতের ভূরাজনীতি।
কৌশলগত গুরুত্বের কারণে আঞ্চলিক বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মনোযোগের মধ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ উপস্থিতি জরুরি। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে হাজির বাংলাদেশের জন্য দরকারি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে হোক বা নানা সহযোগিতার আবরণেই হোক, সবাই চায় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে।
১৯ শতকের মার্কিন নৌকৌশলবিদ আলফ্রেড থায়ার মাহান সমুদ্রবাণিজ্য, নৌপথ, নৌশক্তি, এর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণএসব নিয়ে একটি বই লিখেন। বইটির নাম The interest of America in sea power(1897). সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সমুদ্রবাণিজ্য বা নৌশক্তি যেভাবেই হোক, সমুদ্র যার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার পক্ষে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তার যুক্তি হচ্ছে, স্থলভূমিতে যতই সম্পদ থাকুক না কেন, সমুদ্রপথে সম্পদ বিনিময় বা বাণিজ্য যত সহজ, অন্য কোনো পথে অত সহজ নয়। তিনি লিখেছেন, একটি দেশ যদি দুনিয়ায় বড় শক্তি হতে চায়, তবে তাকে তার আশপাশের জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে হবে। দেশটিকে এমন এক অঞ্চল তৈরি করতে হবে, যাতে অন্যরা তাকে সমঝে চলে এবং বাইরের শক্তিকে তার আশপাশ থেকে দূরে রাখা যায়।
মাহানের এই বক্তব্য যে শত বছরেরও বেশি সময় পর সমান সত্য, তা স্বীকার না করে উপায় নেই। আজকের দুনিয়ায় বিশ্ববাণিজ্যের ৯০ ভাগই হয় সমুদ্রপথে। এবং সমুদ্র যোগাযোগব্যবস্থার ওপর কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সারা দুনিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ছড়ি ঘুরিয়ে যেতে পারছে। কিন্তু সেখানেই সম্ভবত ভাগ বসানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এশিয়ার ভূরাজনীতি অর্থনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক রিচার্ড জাভেদ হেইডেরিয়ান আল-জাজিরায় এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘নতুন এক নৌশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সমুদ্রব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে উল্টে দিচ্ছে। চীন তার মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তার নৌশক্তিও ক্রমেই বাড়ছে। আবার দেশটির হাতে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই শক্তিতে বলীয়ান হয়ে চীন পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে সংকুচিত করতে চাইছে। হলুদ সমুদ্র থেকে পূর্ব দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সামরিক আধা সামরিক বাহিনী তার আশপাশের সমুদ্রসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।’ ( সিনো-আমেরিকান নেভাল শোডাউন ইন সাউথ চায়না সি২৯ অক্টোবর ২০১৫)
এটা পরিষ্কার যে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিরোধের আশঙ্কাও। আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক রাজনীতির আধিপত্য বিস্তার বাণিজ্যস্বার্থের এই জটিল হিসাব-নিকাশে বাংলাদেশের কৌশলী অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই
ভৌগোলিক কারণে সাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। সমুদ্র, সমুদ্রবন্দর বা সমুদ্রবাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে তাই এত নানামুখী তৎপরতা। আলফ্রেড থায়ার মাহান সমুদ্রবাণিজ্য সে কারণে এর ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গেছেন। কিন্তু শত বছরেরও বেশি সময় পর সমুদ্রের গুরুত্ব আরও বেড়েছে এই কারণে যে সমুদ্র এক বড় সম্পদেরও আধার। সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বাইরে সমুদ্রের নিচের তেল গ্যাসের মতো মূল্যবান জ্বালানি নানা খনিজ সম্পদ এবং ওপরের মাছের ভান্ডার এক দীর্ঘস্থায়ী সম্পদের ক্ষেত্র।
'Blue Economy' বা সমুদ্রকে ঘিরে অর্থনীতি বর্তমান বিশ্বে এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে।বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চল সমুদ্র সীমানা সংগত কারণেই এখন বৈশ্বিক মনোযোগের মধ্যে রয়েছে।
বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ বার্ষিক প্রায় দশমিক ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য শুধু দক্ষিণ-চীন সমুদ্র দিয়েই পরিচালিত হয়। প্রায় এক লাখ জাহাজ এই পণ্য সরবরাহ করে ভারত মহাসাগর থেকে আরব সাগর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বাণিজ্য পথ ধরে। এখানে নিজেদের কর্তৃত্ব, খবরদারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চীনের নিজস্ব বাণিজ্য জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি।
আমাদের মনে আছে যে ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিভিন্ন মহলে এই আলোচনা রয়েছে যে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী কোনো কোনো দেশের আপত্তির কারণেই সরকার শেষ সময়ে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর থেকে সরে আসে। চীনের অঞ্চলে প্রবেশ নিয়ে এই দেশগুলোর আপত্তি রয়েছে। কিন্তু বোঝা যায়, বাংলাদেশে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ব্যাপারে চীন এখনো আশা ছাড়েনি এবং বিষয়টি নিয়ে তারা লেগে রয়েছে।
২০১৫ সালের ৩১জানুয়ারি বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেক সচিবালয়ের আয়োজনে প্রথম বিমসটেক ফাউন্ডেশন বক্তৃতার বিষয় ছিলপঞ্চদশ শতাব্দীর পূর্বের বঙ্গোপসাগরীয় সংযোগ স্থাপন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বল স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ কেনেথ আর হল সেখানে মূল বক্তব্য দেন। কেনেথ হল মনে করেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা বিরোধের আশঙ্কা দুটোই রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরে বিরোধ দেখা যাচ্ছে। চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। তবে এরপরও অঞ্চলের সম্পদের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এটা পরিষ্কার যে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিরোধের আশঙ্কাও। আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক রাজনীতির আধিপত্য বিস্তার বাণিজ্যস্বার্থের এই জটিল হিসাব-নিকাশে বাংলাদেশের কৌশলী অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তবে ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ভুল করার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি বিলম্ব বা দীর্ঘসূত্রতার সুযোগও কম। বাংলাদেশের জন্য দরকারি গভীর সমুদ্রবন্দর স্পষ্টতই এই ভূরাজনীতির খপ্পরে পড়েছে।
যে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বলতে গেলে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি চূড়ান্তই হয়ে গিয়েছিল, সেই সোনাদিয়া নিয়ে এখন আর কোনো কথা নেই। এর ২৫ কিলোমিটার দূরে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে প্রাথমিকভাবে কয়লা আমদানির জন্য একটি গভীর সমুদ্রবন্দর হতে যাচ্ছে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার অর্থায়নে। ইঙ্গিত রয়েছে, এটাই পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারিত হবে পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্রবন্দরে। চীনকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবে কি তবে সোনাদিয়া প্রকল্পটি বাদই পড়ছে? চীন তবে কোন সমুদ্রবন্দরের আশায় দিন গুনছে? দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কর্তৃত্বের সুফল পেতে হলে বঙ্গোপসাগরেও যে তাদের জোরালো উপস্থিতি লাগবে। চীন কীভাবে তা কার্যকর করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

No comments:

Post a Comment