(শুধুমাত্র যারা নতুন তাদের জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
আপনার অসুখ হলে আপনি কি করবেন, এই প্রশ্নটার ধ্রুব কোনো উত্তর নাই। কেননা সবার অসুখ এক না, অসুখ এর ধরন, মাত্রাও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যাবতীয় বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় আপনি অসুখ সারাতে কি করবেন। তেমনি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাই, আপনার অবস্থা আপনিই ভালো জানেন, সুতরাং অন্য জনের কথার উপর সিদ্ধান্ত নিবেন না, আপনার এবং তার অবস্থা এক নাও হতে পারে। যায় হোক এ বিষয়ে আমি কিছু পয়েন্ট আলোচনা করছি, আশা করি তার আলোকে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।
১. যাদের ইংরেজি ও গণিতে ব্যাসিক ভালো আছে তাদের জন্য কোচিং বা প্রাইভেটের প্রয়োজন পড়ে না। কোচিং তাদের কাছে সময় নষ্ট মনে হবে। তাদের করণীয় হচ্ছে বাসায় বেশি বেশি পড়াশোনা করা, অন্যান্য বিষয়গুলিতে বেশি বেশি পড়াশোনা করা এবং ইংরেজি গণিত ও একেবারে ছেড়ে না দিয়ে মাঝে মাঝে অনুশীলন করা। অনেকে আছেন বলেন বাসায় একা একা পড়া হয় না। গ্রুপ করে পড়তে চান। উদ্যোগটা ভালো কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, গ্রুপে গল্পই হয় বেশি, পড়াশোনা হয় কম। তবে নিজের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য অল্প টাকায় কোচিং এর এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হতে পারেন। সেখানে সপ্তাহে ১ টি বা ৩/৪ দিন পর পর একেকটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে পড়াশোনা কন্টিনিউ থাকে। এই পরামর্শ টা সবার জন্যই প্রযোজ্য। আমি নিজেও এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়ে শুধু এক্সাম দিতাম।
২. যারা ইংরেজি বা গণিত যে কোনো একটিতে দুর্বল। তাদের জন্যও কোচিং বেশি একটা উপকারে আসে না। কেননা কোচিং এ যে কোন একটি বিষয় এর উপর সপ্তাহে একটি বা দুটি ক্লাস থাকে সাধারণত। আবার একই স্যার ই যে একটা বিষয়ের সবগুলি ক্লাস নিবে এমন নয়। একটা বিষয় এর বিভিন্ন টপিক এর ক্লাস বিভিন্ন স্যার নিতে পারে। এতে করে টিচারদের সাথে স্টুডেন্টদের কমিউনিকেশন টা গড়ে ওঠে না। তাহলে আপনি যা করতে পারেন তা হলো, আপনি যে বিষয়টি তে দুর্বল সে বিষয়টির উপর ভালো দেখে কয়েকটি বই কিনে জোর দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করেন অথবা নিজে নিজে যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে ঐ বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ কোনো স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে পারেন।
৩. যাদের ইংরেজি গণিত দুটাতেই ব্যাসিক দুর্বল, সরকারি চাকুরি পরীক্ষা বা বিসিএস এর উপর কোনো জ্ঞান নেই, মূলত কোচিং কতৃপক্ষের টার্গেট ই থাকে এদের উপর। তারা চাইলে কোচিং করতে পারেন। কোচিং সেন্টার গুলোতে কি পড়বেন, কিভাবে পড়বেন, কতটুকু পড়বেন ইত্যাদি বিষয়ে অনেক মোটিভেশনাল ক্লাস হয়ে থাকে। এতে বিসিএস বা সরকারি চাকুরি প্রস্তুতি বিষয়ে জ্ঞান পরিস্কার হবে। এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাসিক স্ট্রং করতে কোচিং এর পাশাপাশি আলাদা প্রাইভেটও পড়তে পারেন। আপনি যদি জিরোতে থাকেন তাহলে শুধুমাত্র কোচিংএ পড়ে ব্যাসিক স্ট্রং করা আপনার জন্য সহজ হবে না। তবে একদম কোচিং না করলেও সমস্যা নেই, আলাদাভাবে গণিত ও ইংরেজির জন্য ব্যাসিক কিছু বই কিনে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন অথবা নিজে না বুঝলে বিশেষজ্ঞ স্যারদের কাছে আলাদাভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেন। এবং কয়েকবার বিসিএস প্রিলিমিনারি টিকেছেন বা ভাইভা দিছেন এমন বড় ভাই বা আপুদের কাছ থেকে কি পড়বেন, কতটুকু পড়বেন কিভাবে পড়বেন ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ নিবেন। বিজ্ঞান, কম্পিউটার, বাংলা ব্যাকরণ এ কিছু বোঝার বিষয় আছে যে গুলি বুঝতে পারলে আপনার পড়া সহজ হবে। এগুলোর জন্য আপনার কোনো বন্ধু যে এগুলো ভালো বুঝে কয়েকদিন তাদের সাহায্য নিন। এর জন্য আলাদা প্রাইভেট বা কোচিং এর প্রয়োজন নাই। বিগত কয়েকটি বিসিএস এর প্রশ্ন এবং গত ২/৩ বছর অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন সরকারি চাকুরি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বার বার পড়ে গবেষণা করুন, তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন কি পড়তে হবে, আর সেই আলোকে অন্যান্য সকল বিষয় গুলি ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নিন।
মনে রাখবেন আপনার সমস্যা শুধু আপনিই বোঝেন। তাই তার সমাধানের সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। শুভ কামনা রইলো।
#Happy_Studying...
আপনার অসুখ হলে আপনি কি করবেন, এই প্রশ্নটার ধ্রুব কোনো উত্তর নাই। কেননা সবার অসুখ এক না, অসুখ এর ধরন, মাত্রাও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যাবতীয় বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় আপনি অসুখ সারাতে কি করবেন। তেমনি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাই, আপনার অবস্থা আপনিই ভালো জানেন, সুতরাং অন্য জনের কথার উপর সিদ্ধান্ত নিবেন না, আপনার এবং তার অবস্থা এক নাও হতে পারে। যায় হোক এ বিষয়ে আমি কিছু পয়েন্ট আলোচনা করছি, আশা করি তার আলোকে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।
১. যাদের ইংরেজি ও গণিতে ব্যাসিক ভালো আছে তাদের জন্য কোচিং বা প্রাইভেটের প্রয়োজন পড়ে না। কোচিং তাদের কাছে সময় নষ্ট মনে হবে। তাদের করণীয় হচ্ছে বাসায় বেশি বেশি পড়াশোনা করা, অন্যান্য বিষয়গুলিতে বেশি বেশি পড়াশোনা করা এবং ইংরেজি গণিত ও একেবারে ছেড়ে না দিয়ে মাঝে মাঝে অনুশীলন করা। অনেকে আছেন বলেন বাসায় একা একা পড়া হয় না। গ্রুপ করে পড়তে চান। উদ্যোগটা ভালো কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, গ্রুপে গল্পই হয় বেশি, পড়াশোনা হয় কম। তবে নিজের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য অল্প টাকায় কোচিং এর এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হতে পারেন। সেখানে সপ্তাহে ১ টি বা ৩/৪ দিন পর পর একেকটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে পড়াশোনা কন্টিনিউ থাকে। এই পরামর্শ টা সবার জন্যই প্রযোজ্য। আমি নিজেও এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হয়ে শুধু এক্সাম দিতাম।
২. যারা ইংরেজি বা গণিত যে কোনো একটিতে দুর্বল। তাদের জন্যও কোচিং বেশি একটা উপকারে আসে না। কেননা কোচিং এ যে কোন একটি বিষয় এর উপর সপ্তাহে একটি বা দুটি ক্লাস থাকে সাধারণত। আবার একই স্যার ই যে একটা বিষয়ের সবগুলি ক্লাস নিবে এমন নয়। একটা বিষয় এর বিভিন্ন টপিক এর ক্লাস বিভিন্ন স্যার নিতে পারে। এতে করে টিচারদের সাথে স্টুডেন্টদের কমিউনিকেশন টা গড়ে ওঠে না। তাহলে আপনি যা করতে পারেন তা হলো, আপনি যে বিষয়টি তে দুর্বল সে বিষয়টির উপর ভালো দেখে কয়েকটি বই কিনে জোর দিয়ে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করেন অথবা নিজে নিজে যদি বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে ঐ বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ কোনো স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে পারেন।
৩. যাদের ইংরেজি গণিত দুটাতেই ব্যাসিক দুর্বল, সরকারি চাকুরি পরীক্ষা বা বিসিএস এর উপর কোনো জ্ঞান নেই, মূলত কোচিং কতৃপক্ষের টার্গেট ই থাকে এদের উপর। তারা চাইলে কোচিং করতে পারেন। কোচিং সেন্টার গুলোতে কি পড়বেন, কিভাবে পড়বেন, কতটুকু পড়বেন ইত্যাদি বিষয়ে অনেক মোটিভেশনাল ক্লাস হয়ে থাকে। এতে বিসিএস বা সরকারি চাকুরি প্রস্তুতি বিষয়ে জ্ঞান পরিস্কার হবে। এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাসিক স্ট্রং করতে কোচিং এর পাশাপাশি আলাদা প্রাইভেটও পড়তে পারেন। আপনি যদি জিরোতে থাকেন তাহলে শুধুমাত্র কোচিংএ পড়ে ব্যাসিক স্ট্রং করা আপনার জন্য সহজ হবে না। তবে একদম কোচিং না করলেও সমস্যা নেই, আলাদাভাবে গণিত ও ইংরেজির জন্য ব্যাসিক কিছু বই কিনে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন অথবা নিজে না বুঝলে বিশেষজ্ঞ স্যারদের কাছে আলাদাভাবে প্রাইভেট পড়তে পারেন। এবং কয়েকবার বিসিএস প্রিলিমিনারি টিকেছেন বা ভাইভা দিছেন এমন বড় ভাই বা আপুদের কাছ থেকে কি পড়বেন, কতটুকু পড়বেন কিভাবে পড়বেন ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ নিবেন। বিজ্ঞান, কম্পিউটার, বাংলা ব্যাকরণ এ কিছু বোঝার বিষয় আছে যে গুলি বুঝতে পারলে আপনার পড়া সহজ হবে। এগুলোর জন্য আপনার কোনো বন্ধু যে এগুলো ভালো বুঝে কয়েকদিন তাদের সাহায্য নিন। এর জন্য আলাদা প্রাইভেট বা কোচিং এর প্রয়োজন নাই। বিগত কয়েকটি বিসিএস এর প্রশ্ন এবং গত ২/৩ বছর অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন সরকারি চাকুরি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বার বার পড়ে গবেষণা করুন, তাহলে নিজেই বুঝতে পারবেন কি পড়তে হবে, আর সেই আলোকে অন্যান্য সকল বিষয় গুলি ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নিন।
মনে রাখবেন আপনার সমস্যা শুধু আপনিই বোঝেন। তাই তার সমাধানের সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। শুভ কামনা রইলো।
#Happy_Studying...
No comments:
Post a Comment