বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি - Jobs Study

Reliable and trusted site, most common questions for competitive exam-BCS Exam Preparation, Bank Exam Preparation, Govt Job Preparation, Private Jobs, NTRCA Exam Question Solution, University Admission Question, Non Cadre Exam Preparation, Primary School Teacher Exam Questions and Answer.

https://www.toprevenuegate.com/uy05hjthep?key=787ad49ab5c48d1e4b289e61ff5d6eae

Sunday, March 15, 2020

বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি

পর্ব - ০১
গতকাল ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। হোমপেজে অনেকের অনুভূতি প্রকাশ দেখে আমারও প্রিলি-রিটেনের রেজাল্টের কথা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে। রেজাল্টের পর বারবার পিডিএফ ওপেন করে নিজের রোলটা চেক করতাম। আর ৩৭ তম চূড়ান্ত ফলের পর তো পরমানন্দে চোখ হতে ঘুমই চলে গিয়েছিল কিছুদিনের জন্যে। সে কী এক অসামান্য আনন্দ তার কিছুটা আজ হয়তো কেউ কেউ টের পাচ্ছেন যারা প্রথমবারের মতো প্রিলি পাশ করলেন। তাদের জন্যই আমার এ পোস্ট!
হ্যাঁ, আজ হতেই হয়তো জোর কদমে শুরু হতে যাচ্ছে সবার রিটেন প্রস্তুতি। বিনা যুদ্ধে কেউই সূচ্যগ্র মেদেনী দিতেও রাজি নন। তাই অনেকেই ফোন করে বা মেসেঞ্জারে জানতে চাইছেন কী করণীয়। তাদের জন্যই আমার এই সামান্য চেষ্টা! চলুন শুরু করা যাক...
যারা প্রথমবার রিটেন দিচ্ছেন বা প্রিলি পাশ করবেন কিনা নিশ্চিত ছিলেন না, তাদের সম্ভবত তেমন কিছুই পড়াশোনা করা হয় নি। ধরে নিই, কিছুই পড়াশোনা হয় নি। তাহলে সহজে পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া যাবে।

ধরুন, আপনি সর্বোচ্চ চার মাস সময় পাবেন রিটেন প্রস্তুতি নেবার জন্য। এর বেশি সময় পেলে সেটা হবে বোনাস। যেখানে স্ট্র্যাটেজিক মেথডে না এগোলে এই বিশাল সিলেবাসের সমুদ্রে ডুবে যাবার রয়েছে সমূহ সম্ভাবনা।
সে কারণেই আপনার প্রিপারেশন নেওয়ার ধরণ হতে হবে qualitive, not quantative. বেশি পড়বেন ঠিক আছে তবে বুঝে-শুনে। সবসময় যা পড়বেন, তা খাতায় কিভাবে প্রেজেন্ট করবেন সেটা ভেবে পড়া উচিত। এখানে আমি বিষয়ভিত্তিক কিছু বইয়ের সাজেশন্স দিবো। পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করব।
★ বাংলা ★
গাইড বইঃ
(১) অ্যাসিউরেন্স
(২) বাংলা সাহিত্য জিজ্ঞাসা
(৩) নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ
(সংক্ষিপ্তভাবে পড়তে চাইলে শুধু 'অ্যাসিউরেন্স' ইজ মোর দ্যান ইনাফ।)
২০০ নম্বরের বাংলা পরীক্ষায় আপনার টার্গেট মার্কস হতে পারে এমনঃ
ব্যাকরণ- ২৭(৩০)
সাহিত্য- ২২(৩০)
ভাবসম্প্রসারণ- ১২(২০)
সারমর্ম- ১২(২০)
অনুবাদ- ১১(১৫)
সংলাপ- ১০(১৫)
পত্র- ১১(১৫)
গ্রন্থ সমালোচনা- ১০(১৫)
রচনা- ২৫(৪০)
----- সর্বমোট= ১৪০
* প্রথমেই নতুন গাইড বইটির প্রতি অনুরাগ দূর করতে হবে। সেটিকে বুকবাইন্ডিং-এর দোকানে নিয়ে যান। বাংলা প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র অংশদ্বয়কে কেটে আলাদা করে বাঁধাই করে নিয়ে আসুন। দেখবেন বইয়ের সাথে সাথে সিলেবাসটাও হালকা মনে হবে।
* বিগত বিসিএস রিটেন প্রশ্নগুলোতে চোখ বুলান। সেখানে আসা ব্যাকরণ অংশ ও সাহিত্য অংশটুকু পড়ে ফেলুন। ওখান থেকেই সাধারণত ৭০-৮০% কমন পড়ে থাকে।
* বানানের নিয়ম, প্রবাদ-বাগধারা, শুদ্ধি-অশুদ্ধি, বাক্য রূপান্তর- এই টপিকগুলোতে যেনো এক নম্বরও কাটা না যায় সেভাবে পড়তে হবে। এখানে প্রাকটিস ও রিভিশন দেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। নিয়মগুলো গাইডেই গুছিয়ে দেওয়া আছে। বাইরের কোন বই-টই পড়ার দরকার নেই।
প্রবাদের জন্য অ্যাসিউরেন্স গাইডের পাশাপাশি শ্রদ্ধেয় সমর পাল স্যারের 'প্রবাদের উৎস সন্ধান' বইটি দেখতে পারেন। ঐ বই থেকে বেশ ক'বার পরীক্ষায় এসেছে। বইয়ে প্রবাদগুলো গল্পাকারে দেওয়া আছে, তাই আলাদা করে খাতায় সে প্রবাদ গুলোর অর্থ লিখে নিন এবং তা দিয়ে বাক্য রচনা করে রাখুন। আর প্রবাদ পড়ার সময় অর্থ বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করবেন, যেগুলো জটিল লাগবে শুধু সেগুলোই মুখস্থ করবেন।
* সাহিত্য অংশে ইদানীং একটু ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন আসে। তাই সৌমিত্র শেখরের 'বাংলা সাহিত্য জিজ্ঞাসা' বই হতে বিখ্যাত রচনাগুলোর কাহিনী-সংক্ষেপ, চরিত্র চিত্রন, সমাজচিত্র ইত্যাদি বিষয় পড়ে নেওয়া যেতে পারে। এখানে পরীক্ষায় ২/৩ টি প্রশ্ন নতুন আসতে দেখা যায়, আর বাকিগুলো বিগত বছর হতেই কমন পড়ে। তাই কমন প্রশ্নগুলোর উত্তরে ভাষাগত মাধুর্য, উক্তি ব্যবহার ও টু-দি-পয়েন্ট উত্তরের দিকে নজর দিবেন। প্রয়োজনে নোট করবেন।
* ভাবসম্প্রসারণ ও সারাংশ-সারমর্ম লেখা এক ধরনের আর্ট। এগুলো মাঝে মাঝেই পড়তে হবে এবং নিজে বানিয়ে লেখার প্রাকটিস করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ স্টাডি কাজে আসবে। সপ্তাহে ২ দিন করে অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে প্রাকটিস করতে পারেন। এগুলো হুট করে একদিন পড়ে ভালো করা যায় না।
ভাবসম্প্রসারণের কিছু কমন টপিক থাকে। সে টপিক অনুযায়ী কয়েকটি করে শ্লোগান, প্রবাদ, সাহিত্যিক বা মনীষীদের ছোট ছোট কোটেশন সংগ্রহ করুন। নম্বর বাড়াতে এগুলো খুবই উপকারী। তাছাড়া পরে দেখবেন সেগুলো অনেক জায়গায়ই ব্যবহার করতে পারছেন। এ টপিক গুলো এমন হবে- মানবতা, জ্ঞান-বিদ্যা, জীবন, প্রকৃতি, ভালোবাসা, সত্যবাদিতা/মিথ্যাবাদিতা, দেশপ্রেম, নারীর ক্ষমতায়ন, সুখ-দুঃখ, সভ্যতা, বন্ধুত্ব, স্বার্থপরতা ইত্যাদি। ভাব সম্প্রসারণে তথ্য-উপাত্তও ব্যবহার করা যাবে, এ তথ্য-উপাত্তগুলো বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়ার সময় শিখবেন।
* অনুবাদও চর্চার বিষয়। বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা মিলিয়ে অনুবাদে ৬৫ নম্বর। তাই এর গুরুত্বও অনেক। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ২ ঘণ্টা করে অনুবাদের জন্য সময় রাখা উচিত। যারা এ টপিকে দুর্বল তারা অ্যাসিউরেন্স গাইডের অনুবাদ গুলো থেকে দু'বার করে চর্চা করার চেষ্টা করতে পারেন। ভোকাবলারির পাশাপাশি কিছু কমন, বারবার আসা phrase বা লাইন আন্ডারলাইন করে রাখবেন এবং মাঝে মাঝে রিভাইস দিবেন। বই থেকে চর্চা করার সুবিধা হলো এখানে বাংলা ও ইংরেজি দু'টোই করে দেওয়া থাকে, তাই আপনি মিলিয়ে দখতে ও শিখতে পারবেন। বিগত রিটেন পরীক্ষায় আসা অনুবাদগুলোও চর্চা করবেন। পরবর্তীতে (সম্ভব হলে) পত্রিকার অনুবাদও করতে পারেন। অনুবাদ বিষয়ে Saifur's এর একটি ছোট বই আছে। এ বইটি আপনাকে স্ট্রাকচারালি বাক্য গঠনে সহায়তা করবে।
* গ্রন্থ-সমালোচনা বিষয়টি অনেকের জন্যই নতুন। এটি শুধু গ্রন্থের কাহিনীকে বোঝায় না। বরং রচনার শিল্পমূল্য বিচার করাকে বোঝায়। বাজারের কিছু বইয়ে দেখেছি শুধু কাহিনী তুলে দিয়েছে। তবে অ্যাসিউরেন্স গাইডে একদম ঠিক আছে। যদি ভালো নম্বর তুলতে চান, তাহলে সংক্ষেপ করে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। বইয়ে অনেক বড় করে লেখা, যার এক-তৃতীয়াংশ হয়তো পরীক্ষায় লেখার সুযোগ পাবেন। আমি মোট ১০/১২ গ্রন্থ সমালোচনার সংক্ষেপ(পয়েন্ট বানিয়ে) মুখস্থের মতো করে রেখেছিলাম। এবং প্রতিটিতে ৪/৫টি করে কোটেশন শিখে রাখতাম।
* আমরা বেশির ভাগই কাল্পনিক সংলাপে গুরুত্ব দিতাম না। তবে ভালো করতে চাইলে, গাইডের সংলাপগুলো সতর্কভাবে পড়ে ফেলুন। সব না পড়লেও হবে, অন্তত ২০-২৫টি। তারপর সময় পেলে নিজে প্রাকটিস করুন। ভাষাগত মাধুর্য, তথ্য উপস্থাপনা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণে মনোযোগ দিন। সাদামাটা ভাবে লিখলে নম্বরও সাদামাটা আসবে। প্রয়োজনে কয়েকটি ইমপর্টেন্ট দেখে সংলাপ নোট করুন এবং উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনার দিকে নজর দিন। তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করতে পারলে ভালো।
* পত্রলিখনে 'অথবা' থাকে। চেষ্টা করবেন দরখাস্ত বা প্রতিবেদন উত্তর করতে। কারণ ব্যাক্তিগত পত্রে নম্বর কম আসে। আর এখানে ফরমেটটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ফরমেটে সঠিক পত্র লিখার পাশাপাশি পেশাগত লেখনী আনার চেষ্টা করবেন। সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের ভাষাগত তফাৎ রয়েছে। আপনার লেখার ভেতরেও এ সচেতনতার উপস্থিতি থাকা ভালো।
* রচনা এখনই পড়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী পড়া শেষ হবার পর পড়লেও চলবে। সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী রচনায় তথ্য-উপাত্ত, কোটেশন, চিত্র, ম্যাপ, গ্রাফ, পাই-চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারলে ভালো নম্বর পাবেন। এক্ষেত্রে 'BCS Written Campaigner' গ্রুপে শেয়ারকৃত রচনার নোটগুলো দেখুন। আর মনে রাখবেন, অধিক সংখ্যক রচনা পড়তে হয় না। সাধারণত ৫-৭টি রচনা পড়লেই পরীক্ষায় একাধিক রচনা কমন পড়ে থাকে।
* চাইলে পাশাপাশি ডাইজেস্ট গাইড সংগ্রহ করতে পারেন। বাজারে ভালো মানের অন্য কোন বই থাকলে, সেটাও ফলো করতে পারেন। তবে একটার বেশি গাইড ফলো করা প্রায় অসম্ভব। কেননা একটা গাইডেরই বড়জোর ৩০-৪০% পড়া সম্ভব হয়।
* সব কিছুই নোট করে পড়ার দরকার নেই। কেননা বাংলার জন্য প্রস্তুতি নিতে আপনি হয়তো সর্বোচ্চ ১০-১২ দিন সময় পাবেন।
* শুরু থেকেই বাংলা লেখার সময় বানানের শুদ্ধতার দিকে নজর দিন। বাংলা পরীক্ষায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যাদের হাতের লেখায় জড়তা ও অস্পষ্টতা আছে, তা দূর করবার চেষ্টা করবেন।
* বাংলা পরীক্ষায় কিভাবে ভালো করবেন তা নিয়ে বাংলার ছাত্রদের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। তাতে আপনার লেখনী আরো সমৃদ্ধ হবে।
বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার এ পরামর্শগুলো একান্ত আমার, যার ৭০-৮০% কাজে লাগাতে পারলে আপনি ভালো নম্বর(১২৫+) পাবেন বলে আশা রাখি।
সবশেষে, প্রতিযোগিতায় নেমে হাল ছেড়ে দেওয়ার কোন রীতি নেই। তাই আপনার সর্বোচ্চটা দিন। হেলে-খেলে রিটেন পরীক্ষায় হয়তো অনেকে পাশ করে। তবে ক্যাডার পাওয়া, বিশেষ করে জেনারেল ক্যাডার পাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমের বিকল্প নেই। সুশান্ত পাল স্যারের সাথে সুর মিলিয়ে শেষ করব- হয়তো আগামী ০৩ মাসের প্রস্তুতিই হতে পারে আপনার আগামী ৩০ বছরের safeguard!
শুভ কামনা
সাইফুল হুদা নাজাত
৩৭ তম বিসিএস (প্রশাসন)

বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি
পর্ব- ০২
★ ইংরেজি ★
বই / গাইডঃ
(১) অ্যাসিউরেন্স (ইংরেজি)
(২) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইংরেজি প্রথম পত্র বই
(৩) Saifur's হাতে-কলমে Composition Writing & Translation (ঐচ্ছিক)
২০০ নম্বরের ইংরেজি পরীক্ষায় আপনার টার্গেট মার্কস হতে পারে এমনঃ
Thematic questions:18-22 (30)
Grammar & Usage: 20-25 (30)
Summary: 12-14 (20)
Letter to the Editor: 12-14 (20)
Essay: 28-35 (50)
Translation (Bangla): 15-18 (25)
Translation (English): 15-18 (25)
----- Total: 117-143
এখানে আমি দুই ধরনের টার্গেট মার্কস দিয়েছি। কারো জন্য ১১৭, আবার কারো কারো জন্য ১৪৩। ইংরেজিতে যাদের খুব দুর্বলতা থাকে তাদের ১০০ নম্বরেরও নিচে পেতে দেখা যায়। আবার পরীক্ষায় ১৪৫ নম্বর পেয়েছেন এমনও আছে।
অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন বিসিএস রিটেন পরীক্ষায় নম্বর পাবার সবচেয়ে বেশি বৈষম্য তৈরি হয় এই ইংরেজি পরীক্ষায়। তাই ইংরেজিকে অনেকেই বলেন ক্যাডার নির্ধারণী পরীক্ষা। ইংরেজি পরীক্ষা খারাপ দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছেড়ে দেওয়ারও বহু নজির আছে। তাই ব্যাকগ্রাউন্ড যাই থাকুক না কেনো, নবীনদের শুরু থেকেই ইংরেজি বিষয়ে এক্সট্রা এ্যাটেনশন দেওয়া উচিত।
যাদের ইংরেজিতে দুর্বলতা রয়েছে, শুরুতেই তাদের যা করা উচিত নয়ঃ
* vocabulary, synonym, idioms মুখস্থ করা
* পত্রিকার আর্টিকেল ট্রান্সলেশন করা
* অতিরিক্ত গ্রামার চর্চা করা
এতে প্রচুর সময় অপচয় হবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না।
আমি সবসময়ই মনে করি একটি ভাষা শিখতে হলে সে ভাষাটি আগে পড়তে হবে এবং ফ্রি হ্যান্ড প্রাকটিস করতে হবে। কয়েকটি ধাপে আপনাদের করণীয় কী হতে পারে তার একটা খসড়া আমি নিচে উল্লেখ করছি। আপনাদের সক্ষমতার সাথে আমার দিকনির্দেশনা অ্যাডজাস্ট করে নিবেন।
[[ধাপ-০১ (প্রথম মাস)]]
* সপ্তাহে ৩-৪ দিন আপনার পড়ার রুটিনে ইংরেজির জন্য অতিরিক্ত ২ ঘণ্টা সময় রাখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী এই তিন চার মাস সময়ের ভেতর কম-বেশি ২০ দিন সময় রাখতে পারেন শুধুই ইংরেজির জন্য।
* শুরুতেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর 'English for Today' বইটি পড়ে ফেলুন। বইটি বেশ কার্যকরী। অজানা শব্দগুলোর অর্থ ডিকশনারি হতে বের করুন এবং বইটিতেই আন্ডারলাইন করে অর্থ লিখে রাখুন। কিছুদিন পর বইটি আবার রিভাইস দিন। যত বেশি রিভাইস দিবেন অটোমেটিকলি আপনার ভোকাবলারি সমৃদ্ধ হবে।
* অ্যাসিউরেন্স গাইডের ট্রান্সলেশন অংশ হতে চর্চা করুন। বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি হতে বাংলা দু'টোই করবেন। এবং বইয়ের উত্তরের সাথে মেলাবেন এবং সেখান হতে নতুন নতুন word, phrase, preposition এর ব্যবহার ইত্যাদি দাগিয়ে দাগিয়ে শেখার চেষ্টা করবেন।
* Translation-করার সময় Smart Sentence লেখার চেষ্টা করবেন। কোন গ্রামার বই(নবম-দশম শ্রেণীর অ্যাডভান্স গাইড) থেকে বাক্য গঠনের নিয়ম(Syntax) এবং Simple- Complex- Compound Sentence লেখার structure-গুলো একবার দেখে নিতে পারেন।
* অ্যাসিউরেন্স গাইড হতে Noun- Verb- Adjective- Adverb অংশটি অর্থ সহকারে মুখস্থের মতো পড়ুন। কঠিনগুলো হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখবেন। পরে রিভিশন দিতে সহজ হবে। পাশাপাশি এ সকল শব্দের বানান প্রাকটিস করুন।
[[ধাপ-০২ (দ্বিতীয় মাস)]]
* রিপোর্ট রাইটিং-এর ফরমেটটা ঝালিয়ে নিন। পরীক্ষায় ২ ধরনের ফরমেটে রিপোর্ট আসতে দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএসের রিপোর্ট রাইটিং ফরমেট দেখুন।
রিপোর্টের ভাষা সাধারণ ভাষার চেয়ে একটু টেকনিক্যাল হয় এবং তথ্যসমৃদ্ধ হয়। এদিকে একটু সজাগ থাকবেন। পাশাপাশি একঘেয়ে রিপোর্ট না লিখে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে ঐ বিষয়ে আপনার কোনো সুপারিশ বা জানা থাকা কোন ডাটা উপস্থাপন করতে পারেন। আমি অবশ্য বানিয়ে বানিয়ে গ্রাফ/চার্ট ব্যবহার করেছি😃। তবে যেটাই করেন তা যেন লজিক্যাল হয়।
* Joining Sentence ও Punctuation-এর নিয়মগুলো গাইড থেকে দেখে নিন বা কোন শিক্ষকের কাছ হতে শিখে নিন। এগুলো প্রাকটিসের মাধ্যমে ক্লিয়ার করতে হবে। কারণ এখানে ফুল মার্কস পাওয়া সহজ।
* এবার অ্যাসিউরেন্স গাইডের শুরুতে যে মডেল কোয়েশ্চেন আছে এবং ৩৫তম বিসিএস হতে ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত রিটেন কোয়েশ্চেনের passage(part-A) অংশগুলো ঘরে বসে বসে পরীক্ষা দিন। এরপর উত্তরের সাথে মিলিয়ে নিজেকে ইমপ্রুভ করুন। কারণ এখানেই ১০০ মার্কস। পাশাপাশি ভোকাবলারি শেখার চেষ্টা করবেন। সম্ভব হলে এ চর্চায় সপ্তাহে অন্তত একদিন ২-৩ ঘণ্টা করে সময় দিবেন। এতে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং প্রাকটিসটাও হবে।
* মডেল কোয়েশ্চেন সলভ করার সময় Words, phrases বা synonym দিয়ে making Sentence এর ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখবেন। এখানে সচরাচর ১৫ নম্বর আসে। ১২-১৩ অনায়াসে পাওয়া যায়।
>>> আরো যা করা প্রয়োজনঃ
(১) এখন synonym/antonym পড়তে পারেন। তবে এখানে ফুল নম্বর আশা করবেন না। অনেক ইংরেজ বিশারদও এখানে ফুল মার্কস পান না।
(২) শুদ্ধ বানান ও সঠিক বাক্য গঠন করা ইংরেজি পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দু'টো বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন, না হলে অনেক লিখেও নম্বর কম পাবেন।
(৩) খুব বেশি কমপ্লেক্স বাক্য বা বোম্বাস্টিক ওয়ার্ডস ব্যবহার করতেই হবে এমন টেনডেন্সি অনেকের থাকে।এতে বেশি নম্বর পাবেন বলে তারা ভাবতে পারেন। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক নয়। সহজ, প্রচলিত ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনা করাটাই উত্তম।
>>> যারা খুব ভালো নম্বর পেতে চানঃ
(১) Thematic questions গুলোতে ৩ নম্বর থাকে। এগুলোর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উত্তর দিবেন। আর উত্তরগুলো করার সময় টেকনিক্যাল ওয়ার্ড ছাড়া passage হতে পারত পক্ষে কোন একটি শব্দও ধার করবেন না। নিজের ভাষায় লিখুন। সম্ভব হলে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে উপস্থাপনা করুন। উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনতে সর্বদা চেষ্টা করবেন।
(২) Grammar & Usage অংশটি বিশেষ চর্চা করবেন। চেষ্টা থাকলে এখানে ৩০ নম্বরে ২৫+ পাওয়া যাবে।
(৩) বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় আর্টিকেল ট্রান্সলেশন করলে আপনার ভাষাগত সমৃদ্ধি আসবে। এক্ষেত্রে গ্রুপ ওয়ার্ক করলে উপকার পাবেন।
এবার আসি essay বিষয়ে। রচনা পড়বেন সবার শেষে অথবা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী প্রিপারেশন সম্পন্ন হবার পর।
বিগত বছরের প্রশ্নের আলোকে সাজেশন্স করে ৫টি রচনা পড়লেই সাধারণত কমন পরে। যেহেতু কমন পড়ে, তাই রচনার উত্তর হতে হবে কিছুটা ব্যতিক্রমী। রচনার ভেতর সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত, কোটেশন, চিত্র, ম্যাপ, গ্রাফ, পাই-চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারলে ভালো নম্বর পাবেন। আর যদি ইংরেজি ভাষায় আপনার ভালো কমান্ড থাকে, তাহলে রচনার ৩টি অপশন হতে আনকমন রচনাটি উত্তর করা হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।
That's all for today. Always try to realize your potentials and boost your imagination.
Best wishes.
Saiful Huda Nazat
Assistant Commissioner & Executive Magistrate
(37 BCS)

বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি
পর্ব- ০৩
আজকের বিষয়ঃ-
গণিত, মানসিক দক্ষতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
★ গণিত ★
বই / গাইডঃ
(১) ওরাকল/ অ্যাসিউরেন্স গণিত গাইড
(২) নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বই + গাইড
(৩) সম্ভাব্যতা+বিন্যাস+সমাবেশের জন্য এইচ.এস.সি উচ্চতর গণিত প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (ঐচ্ছিক)
যাদের গণিতে ভালো দখল নেই, তাদের জন্য মাত্র ৫০ নম্বরের এই গণিত পরীক্ষার সিলেবাস অনেক বড় মনে হবে। তারা চাইলে এই গণিত চর্চা করেই দুই-তিন মাস কাটিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনি হয়তো সময় পাবেন সর্বোচ্চ ১২-১৪ দিন। তাই অন্যান্য প্রিপারেশনের ফাঁকে ফাঁকে সপ্তাহে ৪-৫ দিন দুই-এক ঘণ্টা করে গণিতের জন্য বরাদ্দ রাখতেই হবে।
আপনার গণিতে টার্গেট মার্ক কতো হবে তা নিয়ে প্রথমেই ভাববার দরকার নেই। বরং বিগত বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে বারবার আসা টপিকগুলো একটা একটা করে শেষ করুন।
আপনার প্রথম টপিক হতে পারে- মান নির্ণয় ও উৎপাদক। এ টপিকে কমপক্ষে ০৫ নম্বর থাকবেই। এই টপিকটি প্রথম চর্চা করুন নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত বই হতে। তারপর বিসিএস গাইড হতে। সবশেষে নবম-দশম উচ্চতর গণিত বই হতে। অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ৪-৫ দিন সময় নিয়ে এই একটি টপিক আপনি শেষ করতে পারেন।
আপনার পরের টপিক হতে পারে- একঘাত ও দ্বিঘাত সমীকরণ। ৫ নম্বর আশা করা যায় এখান হতে। আগের টপিকের স্টাইলেই পড়ুন। এখানেও অন্য পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ৪-৫ দিন সময় দিতে পারেন।
তারপর চর্চা করতে পারেন
সেট ও ভেনচিত্র (০৫)
সূচক ও লগারিদম (০৫)
ত্রিকোণমিতি (০৫)
পরিমিতি{ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ} (০৫)
উপর্যুক্ত এ ছয়টি টপিক থেকে ৫টি টপিকে গণিত আসবেই। এবং এগুলো সবচেয়ে সহজ টপিক। তো এগুলো চর্চা করেই আপনি গণিতে ২৫ পেয়ে যেতে পারেন।
এরপর লাভ-ক্ষতি, ঐকিক, সুদকষা- এ তিনটি টপিক চর্চা করলে আরো ০৫ নম্বর পাচ্ছেন। এখানে কারো কারো একটু বেশি চর্চা প্রয়োজন হতে পারে।
কার্তেজীয় জ্যামিতি (০৫)
সম্ভাব্যতা/বিন্যাস-সমাবেশ (০৫)
উপপাদ্য অনুসরণে প্রমাণ (০৫)
উপর্যুক্ত টপিকগুলো সঠিকভাবে চর্চা করলেই আপনার ৪০-৪৫ নম্বরের নিচে কমন পড়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়গুলোর মাঝে কয়েকটু টপিক আছে কিছুটা জটিল, শ্রমসাধ্য ও সময়সাধ্য। ধৈর্য ধরে প্রস্তুতি নিন।
★ মানসিক দক্ষতা ★
গাইড :
(১) ওরাকল
(বাজারে আরো ভালো বই থাকতে পারে, খোঁজ নিন।)
মানসিক দক্ষতার ৫০ মার্কসে কেউ কেউ ৪৫+ পান। আবার অনেকে ৩৫ নম্বরেরও নিচে পান। এর মূল কারণ এ বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নেওয়া বা না নেওয়া। সব বিষয়ের বৃহৎ সিলেবাসের চাপে থাকার কারণে অনেকেই মানসিক দক্ষতায় ততোটা নজর দেওয়ার সুযোগ পান না।
কিন্তু এখানে সতর্কভাবে একটু বেশি সময় দিলেই স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ নম্বর পর্যন্ত বেশি পাওয়া সম্ভব হবে।
করণীয়ঃ
(ক) বিগত প্রিলি ও রিটেন পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন সমাধান। ৩০-৪০% কোয়েশ্চেন রিপিট হয়ে থাকে।
(খ) বিগত প্রশ্নগুলো এনালাইসিস করে ইম্পর্টেন্ট টপিকগুলো বুঝতে হবে।
(গ) সম্ভবত কনফিডেন্স পাব্লিকেশন্সের একটি মানসিক দক্ষতা গাইড আছে। আমি যখন পেয়েছিলাম তাতে ১০০ টেকনিক দেওয়া ছিল। যার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ কিছু টেকনিক আছে যা চর্চা করলে বেশ কাজে আসবে।
(ঘ) পরীক্ষার হলে বসে সব সমাধান করে ফেলবেন- এমন মনোভাব দূর করে কিছু টাইপ কোয়েশ্চেনের উত্তর মুখস্থ রাখা যেতে পারে। যেমনঃ চিত্রটিতে কয়টি ত্রিভুজ আছে? এই প্রশ্নের ১৫/২০টি কমন ফরমেট গাইডে আছে। ঘুরে ফিরে এখান থেকেই কমন পরে।
(ঙ) Verbal Reasoning-এ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন প্রশ্ন আসে, তা নিয়ে টেনস্ড হবেন না। হুট করে অর্ধেক ডিকশনারি কারোরই মুখস্থ করা সম্ভব না।
★ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ★
বই / গাইডঃ
(১) ওরাকল
(২) কম্পিউটার শিক্ষা (নবম-দশম শ্রেণীর বই)
* এটি কিন্তু আবশ্যিক ICT বই নয়।
(৩) নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান
(৪) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ICT গাইড
কেউ যদি শুধু ওরাকল পড়তে চান, তাতেও সমস্যা নেই। বাকি বইগুলো জাস্ট সাপোর্ট হিসেবে নিতে পারেন। যে বিষয়টি গাইড হতে বুঝতে পারছেন না, জাস্ট সেগুলো বোর্ড বই হতে পড়ে সহজে বুঝে নিতে পারেন। প্রয়োজনে গুগলিং বা ইউটিউবিং করেও অনেক ক্রিটিক্যাল জিনিস সহজে বুঝে নিতে পারবেন। যেমনঃ অন্য রকম পাঠশালা(ইউটিউব চ্যানেল)।
টার্গেট মার্কসঃ
সাধারণ বিজ্ঞান- ৪০-৫০ (৬০)
কম্পিউটার- ২০-২২ (২৫)
ইলেকট্রিক্যাল- ১০-১৩ (১৫)
বিজ্ঞান বিষয়ে সাধারণত ৭০-৯০ নম্বর পর্যন্ত উঠে থাকে। এ বিষয়ে আমি খুব বেশি গাইড লাইন দিবো না। কারণ আমি নিজে মানবিক শাখার ছাত্র ছিলাম। তাই আমার স্ট্র্যাটেজি একটু ভিন্ন ছিলো।
বিজ্ঞান বিষয়েও পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া খুব ডিফিকাল্ট। এলোমেলোভাবে এক মাস পড়লেও মনে হবে কিছুই পড়ি নি।
করণীয়ঃ
(ক) বিগত বছরের প্রশ্ন স্টাডি করলেই ৫০%-এরও বেশি প্রশ্ন কমন পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কম্পিউটার ও ইলেকট্রিকে।
(খ) কোয়েশ্চেনর উত্তর টু-দি-পয়েন্ট হওয়া চাই। মনে রাখবেন, শুধু এ বিষয়টিতেই মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা একদম হারাম।
(গ) বেশ কিছু প্রশ্নে চিত্র না চাইলেও চিত্র দিতে হবে। কারণ অনেকেই সেগুলো ব্যবহার করবে। পাশাপাশি কোথাও 'বিক্রিয়া' উপস্থাপন করার থাকলে তা দেওয়া উচিত।
(ঘ) মানবিক শাখার ছাত্ররা বিজ্ঞানের শিক্ষক/ছাত্রদের কাছ হতে ডিফিকাল্ট টপিকগুলো বুঝে নিতে অবহেলা করবেন না।
(ঙ) পরীক্ষায় উত্তর করার সময় আমি কম্পিউটার ও ইলেকট্রিক পার্ট আগে আন্সার করেছি। কারণ এখানে সৃজনশীল প্রশ্ন হয় না এবং প্রশ্ন কমন পড়লে ৯০% নম্বর তোলা সম্ভব। যা খাতার পরবর্তী অংশের উপরও গুড ইমপ্রেশন ফেলবে।
(চ) বিগত বছরের প্রশ্ন স্টাডি করে কিছু চ্যাপ্টার আছে, যেগুলো একেবারে বাদ দিয়ে দিতে পারবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনে সিনিয়রদের পরামর্শ নিন।
(ছ) বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় নোট করে পড়বেন কারণ গাইডে হয়তো চিত্র নেই, কিন্তু অন্য কোন বইয়ে হয়তো আছে। বাড়তি বইগুলো হতে উত্তর পচ্ছন্দ হলে সেগুলো একটি খাতায় নোট করে নিবেন। তাতে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝাটাও কমবে।
শুভ কামনা রইলো।

বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি
পর্ব- ০৪
★ বাংলাদেশ বিষয়াবলী ★
এতো বিশাল সিলেবাস দেখে 'অথৈ সাগরে পড়ে গেছি' ছাড়া ভিন্ন কোন ভাবনা মাথায় আসার কথা নয়। এটা খুব সহজেই অনুমেয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ ছাত্রদের এ বিষয়ে বাজে পরীক্ষা দেওয়ার তিক্ত অনুভূতি রয়েছে। তবে সিলেবাস বুঝে পড়লে এবং প্রিলির অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারলে ভালো ফল আসবে আশা করি।
বই / গাইডঃ
(১) অ্যাসিউরেন্স / প্রফেসর'স
(২) মাসিক ওরাকল জ্ঞানপত্র
(৩) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা
২০০ মার্কসের এই পরীক্ষায় ২০ নম্বরের ১০ টি প্রশ্ন উত্তর করতে হয়। প্রতি প্রশ্নের ভেতর আবার ২/৩ টি সাব-কোয়েশ্চেনস থাকে।
টার্গেট মার্কসঃ ১০ x ১২/১৪ = ১২০/১৪০
এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু টপিক বা চ্যাপ্টার সিলেক্ট করতে হবে যেখান হতে ১২০-১৪০ মার্কসের প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। আমার মতে ফোকাস দেওয়ার মতো কিছু চ্যাপ্টার নম্বরগুলো হলোঃ 1, 4, 7, 8, 9, 11, 12, 16 (চ্যাপ্টার নম্বরগুলো সিলেবাস অনুযায়ী)। এই চ্যাপ্টারগুলোর প্রশ্নও হয় টু-দি-পয়েন্টে উত্তর করার মতো। তাই ভালো করলে ৭৫-৮০% নম্বর পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হবে।
করণীয়ঃ
(১) বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার আসা প্রশ্নগুলো স্টাডি করলে ১০০-১৫০ নম্বর পর্যন্ত কমন পড়তে পারে। I repeat একাধিকবার আসা প্রশ্নগুলো! ৩৫ তম বিসিএস থেকে ৩৮ তম বিসিএস পর্যন্ত আসা প্রশ্ন স্টাডি করে ইম্পর্টেন্ট টপিকগুলো বোঝবার চেষ্টা করবেন। আর সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে একটি প্রশ্ন তো থাকতেই পারে। যেমনঃ ডেঙ্গু সমস্যা, রোহিঙ্গা ইস্যু, উন্নয়ন মেলা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ইত্যাদি।
(২) টু-দি-পয়েন্ট উত্তর দিবেন। অল্প কথায় সঠিক উত্তর লিখুন। কমন না পড়লেও বানিয়ে ক্রিয়েটিভ উত্তর লিখার চর্চা করুন। এক্ষেত্রে প্রেজেন্টেশনের উপর ফোকাস দিন। যেন ভুল উত্তর হলেও আপনার ক্রিয়েটিভ প্রেজেন্টেশন দেখে স্যার কিছু নম্বর দিতে বাধ্য হন।
(৩) কমন পড়ুক বা না পড়ুক তা উত্তর করার কিছু কমন স্ট্র্যাটেজি রপ্ত করতে হবে। তাই প্রতি চ্যাপ্টারের উপর একটা সামারি টাইপ প্রিপারেশন রাখতে পারেন। এক একটা চ্যাপ্টার ধরে খাতায় ৫-৭ পৃষ্ঠায় সামারি রাখলে ভালো হয়। যেন পরীক্ষায় কোন প্রশ্নই অজানা মনে না হয়। তবে বলে রাখি, এ কাজটি বেশ সময়সাধ্য! আমি প্রথমবার রিটেন দেবার সময় এ কাজগুলো করি নি। তার পরিবর্তে ঐ সামারি লাইনগুলো গাইডে হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখতে পারেন। তাতে রিভিশন দিতে সহজ হবে।
(৪) কোটেশন, ডেটা, বাংলাদেশের ম্যাপ, চার্ট, গ্রাফ, বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা হতে টপিক ওয়াইজ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট হতে স্লোগান, ডেটা, চলমান কার্যক্রম সংগ্রহ করতে পারেন। পরীক্ষার খাতায় এগুলো নীল কলমে উপস্থাপন করতে পারেন। বাংলাদেশ বিষয়ে আমার করা কিছু নোট পোস্টের সাথে সংযুক্ত করে দিলাম।
(৫) প্রতিদিন একনজরে পত্রিকা পড়তে পারেন। থার্টি মিনিটস ইজ ইনাফ! এতে অনেক বিষয়ে অটো আপডেট থাকবেন। তাছাড়া কোন ডেটা বা সমৃদ্ধ লেখা পেলে কেটে রাখুন। অথবা আপনি প্রতি মাসের ওরাকল জ্ঞানপত্র পড়তে পারেন।
(৬) এ পরীক্ষায় Time Measurement খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকেই মডেল এক্সাম দিয়ে সময় ঠিক করে নিতে হবে। যাই পারেন না কেন, ফুল আন্সার করে আসবেন।
সবার জন্য অকৃত্রিম শুভ কামনা রইলো।
সাইফুল হুদা নাজাত
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
(৩৭ তম বিসিএস)

বিসিএস (লিখিত) প্রস্তুতি
পর্ব- ০৫ (শেষ পর্ব)
★ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ★
বই / গাইডঃ
(১) অ্যাসিউরেন্স / প্রফেসর'স গাইড
(২) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি - শাহ মোঃ আব্দুল হাই
টার্গেট মার্কসঃ
ক. কনসেপ্চুয়াল ইস্যু: ২৫-৩০
খ. ইম্পেরিক্যাল ইস্যু: ২৭-৩৩
গ. প্রবলেম সলভিং: ১০-১২
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে ভালো মার্কস ধরা যায় ৬৫-৭০। প্রশ্ন সহজ বা কঠিনের উপর নম্বর কম-বেশি হতে পারে।
করণীয়ঃ
(১) টেকনিক্যালি পড়লে এ বিষয়ে খুব বেশি পড়তে হয় না। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো স্টাডি করলেই বুঝবেন, সংক্ষিপ্ত সাজেশন্স করে পড়লেও ৭০-৮০% কোয়েশ্চেন কমন পরে যায়।
(২) প্রথমবার যারা রিটেন দিচ্ছেন তাদের কাছে কনসেপ্চুয়াল ইস্যুগুলো একটু জটিল মনে হবে। এক্ষেত্রে টেকনিক হলো, এগুলো মুখস্ত না করে বুঝে 'key words' মাথায় রাখবার চেষ্টা করবেন। কিছু টপিকের সংজ্ঞা চাওয়া হয়, সেগুলোতে ২/৩টি কোটেশন দিবেন। যে প্রশ্নগুলোতে 'পার্থক্য' চাওয়া হয়, সেগুলো ছক আকারে উপস্থাপন করতে পারেন। এক্ষেত্রে গাইড বইয়ের পাশাপাশি শাহ মোঃ আব্দুল হাই স্যারের বইটি পাশে রাখবেন। আমি এই বইটি হতে ইম্পর্টেন্ট পেইজগুলো কেটে আলাদা একটা ছোট নোটবুক বানিয়ে নিয়ে ছিলাম।
(৩) ইম্পিরিক্যাল ইস্যুতে মোট ০৭টি চ্যাপ্টার আছে। সব চ্যাপ্টার না পড়লেও চলে। ৪/৫ টি চ্যাপ্টার হতেই ৩টি প্রশ্ন কমন পড়ে। The United Nations, Foreign relations of Major Powers, Global Initiatives and Institutions, Major Issues & Conflicts in the world এবং Politics in South Asia- এই পাঁচটি চ্যাপ্টারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে পারেন।
(৪) প্রবলেম সলভিং নিয়ে এতো চিন্তার কিছু নেই। তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী এখানে যে ভুলটা করে, তা হলো ঐ প্রবলেম বা সংকটের কাহিনী বর্ণনা করে ফেলেন। কিন্তু আপনার মূল কাজ হলো সমাধান দেওয়া। এ প্রশ্নে খুব আনকমন কিছু আসলেও ক্ষতি নেই। মনে রাখবেন, আপনার কাজ হলো সমাধান দেওয়া বা সুপারিশ করা। এখানে নিজের ক্রিয়েটিভিটি কাজে লাগাবেন। গাইডের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবলেম সলভিং স্টাডি করুন। সেখানে কিছু কমন সুপারিশ পাবেন যেগুলো কম-বেশি সব প্রশ্নেই ব্যবহার করা যায়। সেগুলোকে আলাদাভাবে নোট করে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার কূটনৈতিক জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!
(৫) ইম্পিরিক্যাল ইস্যুতে ম্যাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। কোন ইস্যুতে তথ্যসমৃদ্ধ টাইমলাইন ছকাকারে উপস্থাপন করতে পারেন। প্যারা প্যারা করে উত্তর না করে চার্ট, টাইমলাইন, বুলেন্ট পয়েন্ট ব্যবহার করে উপস্থাপনার বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করবেন। এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে, কোন বিষয় গুগলে সার্চ দিন এবং 'Images' অপশনে যান। সেখানে যে ধরনের চিত্রনির্ভর উপস্থাপনা থাকে তা স্টাডি করে নিজের উপস্থাপনায় ব্যবহার করতে পারেন।
(৬) অনেকে বলেন, খাতা ভরে লিখে আসলেই নম্বর! এটা হয়তো পরীক্ষক ভেদে কিছুটা সত্য। কিন্তু বর্তমানে ডবল এক্সামাইন করা হয়। তাই আমি বলব- সঠিক লিখুন, তথ্যসমৃদ্ধ লিখুন এবং প্রয়োজনে কম লিখুন। সবসময় এটা ভাববেন, আপনার পরীক্ষার খাতা যদি আপনি নিজে দেখতেন তাহলে নিজেকে নিজে কত মার্কস দিতেন। আর কেমন উত্তর পেলে আরও বেশি নম্বর দিতেন!
*** ধারণা লাভের জন্য আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ বিষয়ে আমার করা আরো কিছু হ্যান্ডনোটের ছবি সংযুক্ত করলাম।
সাইফুল হুদা নাজাত
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট
(৩৭ তম বিসিএস)

No comments:

Post a Comment