ব্যাংক চয়েসলিস্ট করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিৎ "আমি কী চাই?"। যেমন, যদি চাকুরিকালীন আর্থিক সুবিধা বেশি চাই তবে চয়েসলিস্ট একরকম, চাকরি শেষে আর্থিক সুবিধা পেতে চাইলে আরেক রকম। আবার, পূর্ণ সরকারি চাকরি চাইলে একরকম, পোস্টিং সুবিধাজনক জায়গায় পেতে চাইলে একরকম, অথবা বিরিয়ানি টাইপের চাকরি যেখানে কম-বেশি সব সুবিধাই আছে তাহলে চয়েসলিস্ট অন্য রকম। এই সবকিছু বিবেচনা করেই আজকের এই ব্যাংক চয়েসলিস্ট এনালাইসিস।
প্রথমেই কিছু ব্যাসিক জানা দরকার।
আমরা অনেকেই বুঝিনা কোনটা আসলে সরকারি চাকরি, কোনটা স্বায়ত্বশাসিত, বা কোনটা আধা-সরকারি। মূলত, ব্যাংকারস সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিই মোটাদাগে সরকারি চাকরি। বর্তমানে এমন ১৪টি (২/১ টি নতুন যোগ হতে পারে) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিবিএসসি অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর যেকোন একটিতে চাকরি পেলেই দেশ ও সমাজের চোখে আপনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। বিয়ের সময় জোর গলায় আপনি বলতেই পারেন আপনি সরকারি জব করেন। তবে সরকারি খাতা-পত্রে ও কিছুনীতিগত কাঠামোর বিচারে ব্যাংকের সরকারি চাকরি একটু আলাদা প্রকৃতির। এই লিস্টের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য "সরকারি চাকরি আইন ২০১৮" প্রযোজ্য নয়, তাদের জন্য আলাদা রুলস আছে (যেমন লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের রুলস আলাদা)। এসকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেউ গেজেটেড কর্মকর্তা নয়(তবে বিসিএস থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ প্রেষণে আসলে সেটা ভিন্ন কথা)। রাষ্ট্রের পক্ষে আপনি কারো কোন ডকুমেন্ট সত্যয়ন(এটেস্টেড) করতে পারবেন না। বিবিএসসি-এর অধীন সকল ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য (বাংলাদেশ ব্যাংকসহ) এই বাণী প্রযোজ্য।
ফার্স্ট ক্লাশ পাবার পরেও যেমন আরো কিছু গ্রেডিং আছে যেগুলোও কিনা ফার্স্ট ক্লাশ, বিভিন্ন সরকারি চাকরির মধ্যেও এমন কিছু গ্রেডিং করা যায়। যেমন;-
* প্রথমত, রাজস্বখাত ভুক্ত (যেমন- সকল মন্ত্রণালয়, এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ইত্যাদি) ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- এজি অফিস) ইত্যাদি চাকুরিকে বলা যায় A+ সরকারি জব। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রায় সবাই গেজেটেড কর্মকর্তা হয়ে থাকেন। এবং এসব প্রতিষ্ঠানে যারা জব করেন তারা সরকারের খাস লোক। এদের চাকরি ২৪ ঘন্টাই। অর্থাৎ, জরুরি প্রয়োজনে সরকার যখন চাইবেন তখনই আপনাকে হাজির হইতে হইবে। কোন ওভারটাইম ভাতা নাই (ড্রাইভারের চাকুরি ব্যতীত)।
* দ্বিতীয়ত, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক), কর্পোরেশন (যেমন- জীবন বীমা, সাধারণ বীমা, বিসিক, বিসিআইসি, বিএসইসি, আইসিবি, হাউজ বিল্ডিং) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের চাকরিকে A গ্রেড ধরা যায়। এগুলোতে সরকারি জবের প্রায় সকল সুবিধাই পাওয়া যায়। এগুলো দেশের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান।
* তৃতীয়ত, রাস্ট্রায়ত্ব সকল লিমিটেড কোম্পানির জব A- গ্রেডের ধরা যায়। এগুলোতে সরকারি জবের ম্যাক্সিমাম সুবিধাই পাওয়া যায়।
উপরোক্ত ৩টি ক্যাটাগরির সবগুলো সরকারি জব না হলেও মোটাদাগে এগুলোর সবই সরকারি জব হিসেবেই পরিগণিত হয়। সবগুলোতেই ভালো জব সিকিউরিটি আছে।
এখন আসি সম্মিলিত ৭টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২০৪৬ অফিসার (সাধারণ) পদের চয়েস লিস্টে।
চলমান ৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদনে চয়েসলিস্ট করার ক্ষেত্রে ৩টি ক্যাটাগরি করে সহজেই চয়েসলিস্ট প্রস্তুত করা যায়। যেমন;
★ক- সরকারি ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান
১। কর্মসংস্থান ব্যাংক
২। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
৩। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
★খ- কর্পোরেশন জব (আর্থিক সুবিধা সবথেকে বেশি। এগুলোও ৯৯% সরকারি জব বলা যায়, কখনো প্রাইভেট হবেনা)
১। আইসিবি
২। হাউজ বিল্ডিং
★গ- লিমিটেড প্রতিষ্ঠান (এগুলো সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক। সরকার কখনো মালিকানা ছেড়ে দিলে তখনই কেবল আধা সরকারি/প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হবে। যেমন পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইত্যাদি একসময় সরকারি ছিলো। সেই হিসেবে, সবথেকে সেইফ লিমিটেড প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমান্বয়ে দেয়া হলো-
১। সোনালি
২। জনতা
৩। বিডিবিএল
৪। রুপালি
(দ্রষ্টব্য- তবে প্রাইভেটাইজেশন হইলেও আপনার চাকরির কোন সমস্যা হইবেনা, এবং যেসকল সুবিধা লইয়া আপনি চাকরিতে প্রবেশ করিয়াছিলেন, আশা করা যায় তাহা বলবত থাকিবে। কারণ, সরকারি চাকরির নিয়মই হইলো, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর (সরকারি আইনে সকলেই কর্মচারী) সুবিধা কখনোই কমানো যাইবেনা, বাড়ানো যাইতে পারে।)
এখন চয়েসলিস্ট প্রস্তুত করা যাক-
##সরকারি চাকরি এবং চাকরিউত্তর আর্থিক সুবিধা প্রাধান্য থাকলে চয়েস হবে- ক, খ, গ।
##চাকরিকালীন আর্থিক সুবিধা প্রাধান্য থাকলে- খ, ক, গ।
##কাজের চাপ কম, আরামের চাকরি হিসেব করলে- ক(১), খ(২), খ(১), গ(৩), ক(৩), ক(২), গ(২), গ(৪), গ(১)
##ইনসেন্টিভ, বোনাস, ভাতা হিসেব করলে- আইসিবি, হাউজবিল্ডিং, কর্মসংস্থান, বিডিবিএল, সোনালি, রুপালি, জনতা... ইত্যাদি।
##নিজ এলাকায় পোস্টিং প্রাধান্য থাকলে- গ, ক, খ। আরো বিস্তারিত ভাবে বললে, আপনি নিজ জেলায়/উপজেলায় সারাজীবন চাকরি করতে চাইলে চয়েস দিবেন-
১। সোনালী
২। কর্মসংস্থান ব্যাংক। (প্রচুর শাখা আছে, এবং এটা সরকারি ব্যাংক)
৩। বাংলাদেশ কৃষি
৪। রাজশাহী কৃষি (শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার কোন একটিতে যদি আপনার বাড়ি হয়, সেক্ষেত্রে চয়েজলিস্টের ৪-এ রাখতে পারেন। অন্যথায় নয়।)
৫। জনতা
৬। রুপালী (৫, ৬ জায়গাবদল করলেও সমস্যা নাই)
৭। বিডিবিএল (নিজ জেলায় না পেলেও চেষ্টা করলে নিজ বিভাগে পোস্টিং পাবেন।)
এছাড়া, আইসিবি, হাউজ বিল্ডিং এর শাখা কম হওয়ায় পোস্টিং নিজের পছন্দমতো হবার সম্ভাবনা কম। তবে বাড়ি গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ হলে নিজ জেলায় পোস্টিং পেতে পারেন। এক্ষেত্রে এই দুটি এই চয়েসলিস্টের ১/২ এ রাখবেন।
##আর, বিরিয়ানি টাইপ লিস্ট করতে চাইলে- (আমি হলে এমনটাই চয়েস দিতাম) :-)
১। আইসিবি
২। কর্মসংস্থান
৩। হাউজ বিল্ডিং
৪। বিডিবিএল (চাপ কম, প্রমোশন ভালো, বিভাগীয় শহরে পোস্টিং)
৫। বাংলাদেশ কৃষি (কিছু অফিসে ফ্যান নষ্ট। এলাকা/শাখাভেদে কাজের চাপ কম বেশী। নিয়োগ পেলে পোস্টিং এর আগেই খোঁজ লাগাবেন কোন এলাকায় চাপ কম এবং ফ্যান ভালো। নইলে গরমে ঐ সেই লোকের মত স্যান্ড গেঞ্জি পরে অফিস করতে হতে পারে। পত্রিকায় একবার এসেছিলো এমন ছবি) :p
৬। রাজশাহী কৃষি (লিস্টের ৫ এবং ৬, যেই লাউ সেই কদু। লিস্টে দুটো কৃষি একত্রে রাখাই ভাইভা বোর্ডে আপনার বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। ভালো না লাগলে এই দুইটা শেষেও রাখতে পারেন। আমার সরকারি জব ভালো লাগে বলে এদেরকে এখানে জায়গা দিলাম)
৭। জনতা (ছিম-ছাম কর্মপরিবেশ, সব অফিসেই ফ্যান আছে)
৮। সোনালি (কাজের চাপ, বাপরে বাপ)
৯। রুপালি(জনতা ব্যাংকের মতোই, তবে এটার প্রাইভেটাইজেশন হয়ে যেতে পারে)।
(লিস্টের ৪, ৭, ৮, ৯ নং ব্যাংকগুলো কখনো প্রাইভেট হয়ে গেলে আমার কিন্তু দোষ নাই। সরকার প্রাথমিক ভাবে রাস্ট্রায়ত্ব ৪টি ব্যাংকের ২৫% শেয়ার মার্কেটে ছাড়তে চাইছে!)
পরিশেষে কথা একটাই, কপালে যেই ব্যাংক আছে (যদি থেকে থাকে) সেইটাই পাইবেন। লিস্টে কিচ্ছু হইতো ন। দেখাগেলো, আপনি লাস্ট চয়েস দিইয়াছিলেন রুপালি ইলিশ, কিন্তু হইলেন ২২৪৭ তম (পোষ্ট ২২৪৬টি)। পরবর্তী প্যানেলে দেখাগেলো রুপালি থেকে কোন সিট খালি হয়নাই, শুধু খালি হইয়াছে আপনার চয়েসলিস্টের ১/২ এ থাকা কোন ব্যাংকে। তাহা হইলে ওয়েটিং লিস্টে(২য় প্যানেল লিস্ট) ১ম হবার সুবাদে আপনি সুরুত করিয়া ঐ ১/২ কাতারেই নিয়োগ পাইবেন, এবং আপনার থেকে বেশি নম্বর পাইয়াও এবনহ প্রথমবারে নিয়োগ পাইয়াও চয়েসলিস্টের গ্যারাকলে কেহ আপনার ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান অপেক্ষা নিম্নমানের কোথাও চাকরি করিবে। সবই তার ইচ্ছা। আমাদের কিচ্ছু করার নাই। জীবনে চাকরি এবং ছোকরি (বা ছোকরা), দুটোই পছন্দসই পাওয়া কঠিন।
তবে, সৃষ্টিকর্তা নাছোড়বান্দাদের পছন্দ করেন। এই থিওরিতে আপনার মন থেকে করা চয়েস লিস্ট দ্বারা সৃষ্টিকর্তার মন গলিতেও পারে।
বানী চিরন্তন-
রাজস্ব খাতে ৯ম/১০ম গ্রেডে চাকরিরত থাকিলে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জয়েন না করাই আপনার জন্য শ্রেয় হইবে। মন টিকিবেনা। তাছাড়া, ১০০ তে ১০০ সরকারি জব বলিতে রাজস্ব খাতের জবই বোঝায় যাহার কর্মকর্তাগণ ব্লু পাসপোর্ট পাইয়া থাকেন, গেজেটেড হইয়া থাকেন, এটেস্টেড করার ক্ষমতা রাখেন, এবং প্রেষণে জব করিবার সুবিধা ভোগ করিয়া থাকেন। সেই সাথে, বিনা টাকায় একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, ৯টা-৫টা অফিস, মিটিং সম্মানী, ট্রেনিং সম্মানী, চাকরি শেষে পেনশনে অবারিত সুবিধা, এইসব ছাড়িয়া আপনার মন কোথথাও টিকিবেনা। এই আমি বলিয়া দিলাম!
শুভকামনা রইলো।
প্রথমেই কিছু ব্যাসিক জানা দরকার।
আমরা অনেকেই বুঝিনা কোনটা আসলে সরকারি চাকরি, কোনটা স্বায়ত্বশাসিত, বা কোনটা আধা-সরকারি। মূলত, ব্যাংকারস সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিই মোটাদাগে সরকারি চাকরি। বর্তমানে এমন ১৪টি (২/১ টি নতুন যোগ হতে পারে) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিবিএসসি অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর যেকোন একটিতে চাকরি পেলেই দেশ ও সমাজের চোখে আপনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। বিয়ের সময় জোর গলায় আপনি বলতেই পারেন আপনি সরকারি জব করেন। তবে সরকারি খাতা-পত্রে ও কিছুনীতিগত কাঠামোর বিচারে ব্যাংকের সরকারি চাকরি একটু আলাদা প্রকৃতির। এই লিস্টের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য "সরকারি চাকরি আইন ২০১৮" প্রযোজ্য নয়, তাদের জন্য আলাদা রুলস আছে (যেমন লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের রুলস আলাদা)। এসকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেউ গেজেটেড কর্মকর্তা নয়(তবে বিসিএস থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ প্রেষণে আসলে সেটা ভিন্ন কথা)। রাষ্ট্রের পক্ষে আপনি কারো কোন ডকুমেন্ট সত্যয়ন(এটেস্টেড) করতে পারবেন না। বিবিএসসি-এর অধীন সকল ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য (বাংলাদেশ ব্যাংকসহ) এই বাণী প্রযোজ্য।
ফার্স্ট ক্লাশ পাবার পরেও যেমন আরো কিছু গ্রেডিং আছে যেগুলোও কিনা ফার্স্ট ক্লাশ, বিভিন্ন সরকারি চাকরির মধ্যেও এমন কিছু গ্রেডিং করা যায়। যেমন;-
* প্রথমত, রাজস্বখাত ভুক্ত (যেমন- সকল মন্ত্রণালয়, এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ইত্যাদি) ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- এজি অফিস) ইত্যাদি চাকুরিকে বলা যায় A+ সরকারি জব। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রায় সবাই গেজেটেড কর্মকর্তা হয়ে থাকেন। এবং এসব প্রতিষ্ঠানে যারা জব করেন তারা সরকারের খাস লোক। এদের চাকরি ২৪ ঘন্টাই। অর্থাৎ, জরুরি প্রয়োজনে সরকার যখন চাইবেন তখনই আপনাকে হাজির হইতে হইবে। কোন ওভারটাইম ভাতা নাই (ড্রাইভারের চাকুরি ব্যতীত)।
* দ্বিতীয়ত, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক), কর্পোরেশন (যেমন- জীবন বীমা, সাধারণ বীমা, বিসিক, বিসিআইসি, বিএসইসি, আইসিবি, হাউজ বিল্ডিং) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের চাকরিকে A গ্রেড ধরা যায়। এগুলোতে সরকারি জবের প্রায় সকল সুবিধাই পাওয়া যায়। এগুলো দেশের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান।
* তৃতীয়ত, রাস্ট্রায়ত্ব সকল লিমিটেড কোম্পানির জব A- গ্রেডের ধরা যায়। এগুলোতে সরকারি জবের ম্যাক্সিমাম সুবিধাই পাওয়া যায়।
উপরোক্ত ৩টি ক্যাটাগরির সবগুলো সরকারি জব না হলেও মোটাদাগে এগুলোর সবই সরকারি জব হিসেবেই পরিগণিত হয়। সবগুলোতেই ভালো জব সিকিউরিটি আছে।
এখন আসি সম্মিলিত ৭টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২০৪৬ অফিসার (সাধারণ) পদের চয়েস লিস্টে।
চলমান ৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদনে চয়েসলিস্ট করার ক্ষেত্রে ৩টি ক্যাটাগরি করে সহজেই চয়েসলিস্ট প্রস্তুত করা যায়। যেমন;
★ক- সরকারি ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান
১। কর্মসংস্থান ব্যাংক
২। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
৩। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
★খ- কর্পোরেশন জব (আর্থিক সুবিধা সবথেকে বেশি। এগুলোও ৯৯% সরকারি জব বলা যায়, কখনো প্রাইভেট হবেনা)
১। আইসিবি
২। হাউজ বিল্ডিং
★গ- লিমিটেড প্রতিষ্ঠান (এগুলো সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক। সরকার কখনো মালিকানা ছেড়ে দিলে তখনই কেবল আধা সরকারি/প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হবে। যেমন পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইত্যাদি একসময় সরকারি ছিলো। সেই হিসেবে, সবথেকে সেইফ লিমিটেড প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমান্বয়ে দেয়া হলো-
১। সোনালি
২। জনতা
৩। বিডিবিএল
৪। রুপালি
(দ্রষ্টব্য- তবে প্রাইভেটাইজেশন হইলেও আপনার চাকরির কোন সমস্যা হইবেনা, এবং যেসকল সুবিধা লইয়া আপনি চাকরিতে প্রবেশ করিয়াছিলেন, আশা করা যায় তাহা বলবত থাকিবে। কারণ, সরকারি চাকরির নিয়মই হইলো, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর (সরকারি আইনে সকলেই কর্মচারী) সুবিধা কখনোই কমানো যাইবেনা, বাড়ানো যাইতে পারে।)
এখন চয়েসলিস্ট প্রস্তুত করা যাক-
##সরকারি চাকরি এবং চাকরিউত্তর আর্থিক সুবিধা প্রাধান্য থাকলে চয়েস হবে- ক, খ, গ।
##চাকরিকালীন আর্থিক সুবিধা প্রাধান্য থাকলে- খ, ক, গ।
##কাজের চাপ কম, আরামের চাকরি হিসেব করলে- ক(১), খ(২), খ(১), গ(৩), ক(৩), ক(২), গ(২), গ(৪), গ(১)
##ইনসেন্টিভ, বোনাস, ভাতা হিসেব করলে- আইসিবি, হাউজবিল্ডিং, কর্মসংস্থান, বিডিবিএল, সোনালি, রুপালি, জনতা... ইত্যাদি।
##নিজ এলাকায় পোস্টিং প্রাধান্য থাকলে- গ, ক, খ। আরো বিস্তারিত ভাবে বললে, আপনি নিজ জেলায়/উপজেলায় সারাজীবন চাকরি করতে চাইলে চয়েস দিবেন-
১। সোনালী
২। কর্মসংস্থান ব্যাংক। (প্রচুর শাখা আছে, এবং এটা সরকারি ব্যাংক)
৩। বাংলাদেশ কৃষি
৪। রাজশাহী কৃষি (শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার কোন একটিতে যদি আপনার বাড়ি হয়, সেক্ষেত্রে চয়েজলিস্টের ৪-এ রাখতে পারেন। অন্যথায় নয়।)
৫। জনতা
৬। রুপালী (৫, ৬ জায়গাবদল করলেও সমস্যা নাই)
৭। বিডিবিএল (নিজ জেলায় না পেলেও চেষ্টা করলে নিজ বিভাগে পোস্টিং পাবেন।)
এছাড়া, আইসিবি, হাউজ বিল্ডিং এর শাখা কম হওয়ায় পোস্টিং নিজের পছন্দমতো হবার সম্ভাবনা কম। তবে বাড়ি গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ হলে নিজ জেলায় পোস্টিং পেতে পারেন। এক্ষেত্রে এই দুটি এই চয়েসলিস্টের ১/২ এ রাখবেন।
##আর, বিরিয়ানি টাইপ লিস্ট করতে চাইলে- (আমি হলে এমনটাই চয়েস দিতাম) :-)
১। আইসিবি
২। কর্মসংস্থান
৩। হাউজ বিল্ডিং
৪। বিডিবিএল (চাপ কম, প্রমোশন ভালো, বিভাগীয় শহরে পোস্টিং)
৫। বাংলাদেশ কৃষি (কিছু অফিসে ফ্যান নষ্ট। এলাকা/শাখাভেদে কাজের চাপ কম বেশী। নিয়োগ পেলে পোস্টিং এর আগেই খোঁজ লাগাবেন কোন এলাকায় চাপ কম এবং ফ্যান ভালো। নইলে গরমে ঐ সেই লোকের মত স্যান্ড গেঞ্জি পরে অফিস করতে হতে পারে। পত্রিকায় একবার এসেছিলো এমন ছবি) :p
৬। রাজশাহী কৃষি (লিস্টের ৫ এবং ৬, যেই লাউ সেই কদু। লিস্টে দুটো কৃষি একত্রে রাখাই ভাইভা বোর্ডে আপনার বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে। ভালো না লাগলে এই দুইটা শেষেও রাখতে পারেন। আমার সরকারি জব ভালো লাগে বলে এদেরকে এখানে জায়গা দিলাম)
৭। জনতা (ছিম-ছাম কর্মপরিবেশ, সব অফিসেই ফ্যান আছে)
৮। সোনালি (কাজের চাপ, বাপরে বাপ)
৯। রুপালি(জনতা ব্যাংকের মতোই, তবে এটার প্রাইভেটাইজেশন হয়ে যেতে পারে)।
(লিস্টের ৪, ৭, ৮, ৯ নং ব্যাংকগুলো কখনো প্রাইভেট হয়ে গেলে আমার কিন্তু দোষ নাই। সরকার প্রাথমিক ভাবে রাস্ট্রায়ত্ব ৪টি ব্যাংকের ২৫% শেয়ার মার্কেটে ছাড়তে চাইছে!)
পরিশেষে কথা একটাই, কপালে যেই ব্যাংক আছে (যদি থেকে থাকে) সেইটাই পাইবেন। লিস্টে কিচ্ছু হইতো ন। দেখাগেলো, আপনি লাস্ট চয়েস দিইয়াছিলেন রুপালি ইলিশ, কিন্তু হইলেন ২২৪৭ তম (পোষ্ট ২২৪৬টি)। পরবর্তী প্যানেলে দেখাগেলো রুপালি থেকে কোন সিট খালি হয়নাই, শুধু খালি হইয়াছে আপনার চয়েসলিস্টের ১/২ এ থাকা কোন ব্যাংকে। তাহা হইলে ওয়েটিং লিস্টে(২য় প্যানেল লিস্ট) ১ম হবার সুবাদে আপনি সুরুত করিয়া ঐ ১/২ কাতারেই নিয়োগ পাইবেন, এবং আপনার থেকে বেশি নম্বর পাইয়াও এবনহ প্রথমবারে নিয়োগ পাইয়াও চয়েসলিস্টের গ্যারাকলে কেহ আপনার ব্যাংক/প্রতিষ্ঠান অপেক্ষা নিম্নমানের কোথাও চাকরি করিবে। সবই তার ইচ্ছা। আমাদের কিচ্ছু করার নাই। জীবনে চাকরি এবং ছোকরি (বা ছোকরা), দুটোই পছন্দসই পাওয়া কঠিন।
তবে, সৃষ্টিকর্তা নাছোড়বান্দাদের পছন্দ করেন। এই থিওরিতে আপনার মন থেকে করা চয়েস লিস্ট দ্বারা সৃষ্টিকর্তার মন গলিতেও পারে।
বানী চিরন্তন-
রাজস্ব খাতে ৯ম/১০ম গ্রেডে চাকরিরত থাকিলে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জয়েন না করাই আপনার জন্য শ্রেয় হইবে। মন টিকিবেনা। তাছাড়া, ১০০ তে ১০০ সরকারি জব বলিতে রাজস্ব খাতের জবই বোঝায় যাহার কর্মকর্তাগণ ব্লু পাসপোর্ট পাইয়া থাকেন, গেজেটেড হইয়া থাকেন, এটেস্টেড করার ক্ষমতা রাখেন, এবং প্রেষণে জব করিবার সুবিধা ভোগ করিয়া থাকেন। সেই সাথে, বিনা টাকায় একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ, ৯টা-৫টা অফিস, মিটিং সম্মানী, ট্রেনিং সম্মানী, চাকরি শেষে পেনশনে অবারিত সুবিধা, এইসব ছাড়িয়া আপনার মন কোথথাও টিকিবেনা। এই আমি বলিয়া দিলাম!
শুভকামনা রইলো।
No comments:
Post a Comment