সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ ও অন্যান্য - Jobs Study

Reliable and trusted site, most common questions for competitive exam-BCS Exam Preparation, Bank Exam Preparation, Govt Job Preparation, Private Jobs, NTRCA Exam Question Solution, University Admission Question, Non Cadre Exam Preparation, Primary School Teacher Exam Questions and Answer.

https://www.toprevenuegate.com/uy05hjthep?key=787ad49ab5c48d1e4b289e61ff5d6eae

Tuesday, May 14, 2019

সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ ও অন্যান্য


. বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য / কেন শ্রেষ্ঠ সংবিধান?
------------------------------------
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। আর এই আইনের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের।
.
বাংলাদেশের সংবিধান কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন নয়, সংবিধানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে। মূল সংবিধান ইংরেজি ভাষায় রচিত হয় এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তাই এটি বাংলা ইংরেজি উভয় ভাষায় বিদ্যমান। তবে ইংরেজী বাংলার মধ্যে অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলা রুপ অনুসরণীয় হবে।
.
সংবিধানের তৃতীয়ভাগে অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে অনুচ্ছেদ ৪৪ পর্যন্ত মৌলিক অধিকার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। একজন নাগরিক তার মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য রীট আবেদন করতে পারে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের () দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। আমি মনে করি অনুচ্ছেদ ১০২ বাংলাদেশের সংবিধানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
.
বৈশিষ্ট্যঃ
.লিখিত দলিল, .দুষ্পরিবর্তনীয়, . রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, .মৌলিক অধিকার, .সর্বজনীন ভোটাধিকার, .প্রজাতান্তিক, .সংসদীয় সরকার, .এককেন্দি্ররক রাষ্ট্র, .আইনসভা, ১০.সবোর্চ্চ আইন, ১১.বিচার বিভাগ
________________________________________________
২। ৭২ এর সংবিধানের বৈশিষ্ট্যঃ
উঃ ১৯৭২ সালে গৃহীত সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা,১১টি বিভাগে ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ এবং ৪টি তফসিল সন্নিবেশিত ছিল। এই সংবিধানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো নিম্নরূপঃ
) প্রস্তাবনাঃ জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শস্বরূপ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার সর্বোচ্চ আদর্শকে সুনিশ্চিত করে, যা আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে আত্মনিয়োগ প্রাণ উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করে। এসব আদর্শই সংবিধানের মূলনীতি বলে উল্লেখ করা হয়।
) নতুন জাতিসত্তাঃ সংবিধানের প্রথম ভাগ ছিল নতুন জাতীয়তাবাদের সুনির্দিষ্ট এবং আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ। এটি বাংলাদেশকে একটি একক, স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে। এতে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাষ্ট্রভাষা,জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক,জাতীয় ফুল এবং জাতীয় স্বাতন্ত্র্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিঃ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি আকারে রাষ্ট্রের সামাজিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যসমূহের ঘোষণা সন্নিবেশিত আছে। এতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত চারটি মূলনীতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এগুলো হলঃ
-
জাতীয়তাবাদঃ (অনুচ্ছেদ )
-
সমাজতন্ত্রঃ (অনুচ্ছেদ ১০)
-
গণতন্ত্রঃ (অনুচ্ছেদ ১১)
-
ধর্মনিরপেক্ষতাঃ (অনুচ্ছেদ ১২)
) রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যঃ
কৃষক-শ্রমিকদের সকল প্রকার শোষণের কবল থেকে মুক্তি দান এবং সকল নাগরিকের জন্য অন্ন,বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা এবং যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন অবকাশের সুবিধাসহ অন্যান্য নাগরিক অধিকারকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
) মৌলিক অধিকারঃ
জনগণের মৌলিক অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনও আইন রাষ্ট্র প্রণয়ন করবে না এবং মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ যে কোনও আইন বাতিল বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করার নিমিত্তে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কিংবা নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কারণে মৌলিক অধিকারসমূহের ওপর রাষ্ট্র আইনগত বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে।
/
) সরকার পদ্ধতিঃ
চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ ভাগে প্রধানত বাংলাদেশ সরকারের গঠনপদ্ধতি আলোচিত হয়েছে। সংবিধানে ব্রিটিশ পদ্ধতির অনুসরণে সংসদীয় রীতির গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচিত হবেন এবং কেবলমাত্র জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক অভিশংসনের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণ করা যাবে। ইংল্যান্ডের রাজা বা রানীর ন্যায় তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন একজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করবেন।
) আইনসভাঃ
বাংলাদেশের সংবিধানের মূল বিষয় হচ্ছে, এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বা জাতীয় সংসদের প্রাধান্য। একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ থেকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিনশত সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভোটে ১০ বছর মেয়াদে মহিলাদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষিত থাকবে। জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।
.
) বিচার বিভাগঃ
রাষ্ট্রের বিচার সংক্রান্ত দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত এবং সুপ্রিম কোর্ট এর শীর্ষে অবস্থিত। এটি আপীল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত।রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রদান করবেন, যিনি ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগ দান করবেন।
.
) নির্বাচন, কর্মবিভাগ এবং হিসাব-নিরীক্ষাঃ
সংবিধানের ৭ম, ৮ম ৯ম ভাগে নির্বাচন, হিসাব-নিরীক্ষা এবং বেসামরিক কর্মবিভাগ সম্পর্কে উল্লেখ আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাবনিরীক্ষক নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান সদস্যগণ তাদের দায়িত্ব পালনে স্বাধীন থাকবেন এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যে পদ্ধতিতে যে কারণে অপসারিত হন একই পদ্ধতিতে ওই ব্যক্তিদের অপসারণ করা যাবে (অনুচ্ছেদ ১১৮,১২৯ ১৩০)
.
) সংবিধান সংশোধনঃ
সংবিধানের দশম ভাগে সংশোধন পদ্ধতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে পাসকৃত বিলের মাধ্যমে সংবিধানের যে কোনও বিধান পরিবর্তন বা রহিত করা যাবে।
____________________________________________
. ১৫ তম সংশোধনীঃ
()- প্রারম্ভে - (সংশোধন) পূর্বে সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর বাংলা অর্থ ছিল ‘‘দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে ’’ ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে এর বঙ্গানুবাদ করা হয় ‘‘ পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে ’’
()- প্রস্তাবনা -(প্রতিস্থাপন) পূর্বে ছিল- আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করে (জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের)মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করেছি; সংশোধনীর মাধ্যমে ‘‘স্বাধীনতা ’’ ‘‘যুদ্ধ ’’ শব্দ দুটি প্রতিস্থাপন করে যথাক্রমে মুক্তি সংগ্রাম শব্দদ্বয় সংযোজন করা হয়েছে।
()- () – (সংযোজন) পূর্বে ছিল- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংশোধনীর মাধ্যমে এর পাশাপাশি অন্য ধর্মের মর্যাদাও সংরক্ষিত হয়েছে
()- () - (সংযোজন) ১৫ তম সংশোধনী অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি,প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান শাখা কার্যালয়, সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস মিশনসমূহে সংরক্ষণ প্রদর্শন করতে হবে।
()- () – পূর্বে ছিল বাংলাদেশের নাগরিক বাংলাদেশী বলে গণ্য হবে বর্তমানে তা সংশোধন করে বলা হয়েছে-বাংলাদেশের নাগরিক জাতি হিসেবে বাঙ্গালী এবং নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশী বলে গণ্য হবে
() - () – (সংযোজন) অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষণা করা হয় এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে
() - () - (সংযোজন) সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ভাগ এবং ১৫০ ভাগ কোন অবস্থাতেই পরিবর্তন করা যাবে না।
() - () – (প্রতিস্থাপন) পূর্বে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির একটি ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস বর্তমানে তা প্রতিস্থাপন করে ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
()- (১খ) – (বাতিল) – পূর্বে ছিল আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস বর্তমানে তা বাতিল করা হয়েছে
(১০)- - পূর্বে ছিল স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত সংশোধনীর মাধ্যমে তা প্রতিস্থাপন করে জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়
(১১)- ১০পূর্বে ছিল জাতীয় জীবন নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমানে তা প্রতিস্থাপন করে সমাজতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
(১২) - ১২পূর্বে বিলুপ্ত ছিল বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মীয় স্বাধীনতা সংযোজন করা হয়েছে
(১৩) - ১৮ () – (সংযোজন) – পরিবেশ জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ উন্নয়ন সংযোজন করা হয়েছে
(১৪)- ১৯ () – (সংযোজন) – জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ সুযোগের সমতা সংযোজন করা হয়েছে
(১৫) - ২৩ () – (সংযোজন)- উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণ সংযোজন করা হয়েছে
(১৬)- ২৫ () – পূর্বে ছিল রাষ্ট্র মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক সূদৃঢ় করবে বর্তমানে বিলুপ্ত
(১৭) - ৫৮( , , , )- পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বর্ণনা ছিল যা বর্তমানে বিলুপ্ত
(১৮) - ৬৫() – সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৪৫ টি ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নারী আসন হয় ৫০ টি
(১৯) - ৯৫পূর্বে ছিল রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দিবেন ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিয়োগ দিবেন
(২০) - ১১৮() – রাষ্ট্রপতি যতজন মনে করতেন তত সংখ্যক লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হত ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় সংখ্যা হবে জন
(২১) - ১২৩পূর্বে ছিল জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষের পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
(২২) - ১৪১() – পূর্বে ছিল জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ১৫ তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা সর্বোচ্চ ১২০ দিন করা হয়
(২৩) - ১৪২পূর্বে কিছু কিছু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের কথা বলা থাকলেও সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।
(২৪) - ১৫০পূর্বে তফসিল ছিল টি ১৫০() তিনটি নতুন তফসিল সংযোজন করা হয় পঞ্চম তফসিল- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিল- ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং সপ্তম তফসিল - ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হল বাংলাদেশের স্বাধীনতা মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভাষণ দলিল
____________________________________________
) প্রশ্নঃ মৌলিক অধিকার কি?
মৌলিক অধিকারের সজ্ঞা সম্পর্কিত তথ্যঃ
কতিপয় মানবাধিকার সাংবিধানিকভাবে সংরক্ষিত বা স্বীকৃত হলে তখন সেগুলো মৌলিক অধিকারের পর্যায়ভুক্ত হয়। মৌলিক অধিকারের সাথে মানবধিকারের সম্পর্ক হলো - "সকল মৌলিক অধিকারই মানবধিকার কিন্তু সকল মানবধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
.
সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারসমূহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। অন্য যেকোন আইন এর পরিপন্থী হলে বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তা বাতিল হয়। মৌলিক অধিকার সমূহের উপস্থিতির কারনেই অসাংবিধানিক কোনো আইন প্রনণয়ন করা সম্ভব হয় না।
.
মৌলিক অধিকার হল রাষ্ট্র প্রদত্ত এমন এক অধিকার যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার এক অপরিহার্য বিষয়। এই অধিকারগুলো থেকে দেশের কোন নাগরিককে আইন বহির্ভূতভাবে বঞ্চিত করলে সে আইনের আশ্রয় নিতে পারে। সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ দ্বারা দেশের জনগনকে তার মৌলিক অধিকার বলবৎ করনের জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের () দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হল। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৌলিক অধিকার বলবৎ করার এখতিয়ার সংবিধানের চতুর্থ পরিচ্ছেদের ১০২ অনুচ্ছেদে বিবৃত রয়েছে।আদালত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী পূর্বের সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ এবং তা একই সঙ্গে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন না করার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়।
.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগে ২৭ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত ১৮টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে টি (৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৪১ ৪৪) মৌলিক অধিকার বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিক বিদেশীরা ভোগ করতে পারে এবং বাঁকী ১২ টি (২৭,২৮,২৯,৩০,৩১,৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪২, এবং ৪৩) শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিকগণ ভোগ করতে পারবে।
_______________________________________________
) মৌলিক অধিকারের সহিত অসামঞ্জস্য আইন বাতিলঃ
অনুচ্ছেদ ২৬: () এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
অনুচ্ছেদ ২৬: () রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের
কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
অনুচ্ছেদ ২৬: () সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
.
) প্রশ্নঃ সংবিধান অনুসারে মৌলিক অধিকারসমূহ লিখুন।
উত্তরঃ সংবিধানে বিধৃত মৌলিক অধিকার সমূহ হলোঃ
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭-৪৪ অনুচ্ছেদে মোট ১৮টি মৌলিক অধিকারের উল্লেখ রয়েছে। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালত কর্তৃক বলবদ করা যায়।
.
২৭। আইনের দৃষ্টিতে সমতা
সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।
.
২৮। ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য নয়
(
) কেবল, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবেন না।
(
) রাষ্ট্র গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবেন।
.
২৯। সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
(
) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
() কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।
() এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই
(
) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপর্যুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁদের অনুকুলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হতে,
(
) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মীবলম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হতে,
(
) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না।
.
৩০। বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ
রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবেন না।
.
৩১। আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার
আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িক ভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
.
৩২। জীবন ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকাররক্ষণ
আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।
.
৩৩। গ্রেপ্তার আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
(
) গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁর মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের তাঁর দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যাবে না।
() গ্রেপ্তারকৃত প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে (গ্রেপ্তারের স্থান হইতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে) হাজির করা হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাঁকে তদতিরিক্ত-কাল প্রহরায় আটক রাখা যাবে না।
.
৩৪। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ
(
) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
.
৩৫। বিচার দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ
(
) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটন-কালে বলবৎ ছিল, এরূপ আইন ভঙ্গ করবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দন্ড দেওয়া যেতে পারত, তাঁকে তার অধিক বা তা হতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাবে না।
( অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটন-কালে বলবৎ ছিল, এরূপ আইন ভঙ্গ করবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
এটুকুর ব্যাখাঃ
অপরাধ করার সময় অপরাধের জন্য যে আইন থাকে আইনভঙ্গের অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন দোষ তাকে দেওয়া যাবে না। যেমন, পরীক্ষায় কেউ নকল করলে তাকে বহিষ্কার না করে খুনের দোষ দেওয়া যাবেনা।
_________________
এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দন্ড দেওয়া যেতে পারত, তাঁকে তার অধিক বা তা হতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাবে না। ...এটুকুর ব্যাখ্যাঃ
নকলের জন্য আইনে যে শাস্তির বিধান আছে শাস্তিই দিতে হবে। এর চেয়ে বেশি বা ভিন্ন শাস্তি দিতে পারবে না। যেমন, বিসিএসে নকল করলে শুধু পিএসসির সকল পরীক্ষা থেকে নকলেরর দায়ে বহিষ্কার করতে পারবে। কিন্তু অন্য সরকারী বেসরকারী পরীক্ষার জন্য বহিষ্কার করতে পারবে না। অথবা এই নকলের দায়ে তাকে খুনের শাস্তি মৃত্যুদন্ডও দিয়ে পারবে না।)
() এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ দন্ডিত করা যাবে না।
(
) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হবেন।
(
) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না।
(
) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না কিংবা কারও সাথে অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।
.
৩৬। চলাফেরার স্বাধীনতা
জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, এর যে কোন স্থানে বসবাস বসতিস্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
.
৩৭। সমাবেশের স্বাধীনতা
জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হবার এবং জনসভা শোভাযাত্রায় যোগদান করবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
.
৩৮। সংগঠনের স্বাধীনতা
জনশৃঙ্খলা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরূপ সমিতি বা সংঘ গঠন করবার কিংবা উহার সদস্য হবার অধিকার থাকবে না, যদি
(
) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(
) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(
) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা
(
) উহার গঠন উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।
.
৩৯। চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা
(
) চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
(
) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(
) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ভাব-প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(
) সংবাদক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হল।
.
৪০। পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হয়ে থাকলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসা পরিচালনার অধিকার থাকবে।
.
৪১। ধর্মীয় স্বাধীনতা
(
) আইন, জনশৃঙ্খলা নৈতিকতা- সাপেক্ষে
(
) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে;
(
) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।
(
) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোন ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হলে তাঁকে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।
.
৪২। সম্পত্তির অধিকার
(
) আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর অন্যভাবে বিলি-ব্যবস্থা করিবার অধিকার থাকিবে এবং আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্ত বা দখল করা যাবে না।
(
) এই অনুচ্ছেদের () দফার অধীন প্রণীত আইনে ক্ষতিপূরণসহ বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখলের বিধান করা হবে এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ কিংবা ক্ষতিপূরণ নির্ণয় প্রদানের নীতি পদ্ধতি নির্দিষ্ট করা হবে; তবে অনুরূপ কোন আইনে ক্ষতিপূরণের বিধান অপর্যাপ্ত হয়েছে বলে সেই আইন সম্পর্কে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
.
৪৩। গৃহ যোগাযোগের রক্ষণ
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের () প্রবেশ, তল্লাশী আটক হতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তা-লাভের অধিকার থাকবে; এবং () চিঠিপত্রের যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে।
.
৪৪। মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
(
) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকার সমূহ বলবৎ করবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের () দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হল।
(
) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাঁর এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা দান করতে পারবেন।
.
. প্রশ্নঃ মৌলিক অধিকার স্থগিত কি? কখন স্থগিত হয়?
উত্তরঃ মৌলিক অধিকার স্থগিতঃ
সংবিধানের ১৪১(), ১৪১() ১৪১() অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থায় ঘোষিত হতে পারে। ১৪১() ১৪১() অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হলে কতিপয় ( টি) মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায়। এগুলো হলোঃ
অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা
অনুচ্ছেদ ৩৭: সমাবেশের স্বাধীনতা
অনুচ্ছেদ ৩৮: সংগঠনের স্বাধীনতা
অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা
অনুচ্ছেদ ৪০: পেশা বা বৃত্তির-স্বাধীনতা
অনুচ্ছেদ ৪২: সম্পত্তির অধিকার
) প্রশ্নঃ রাষ্ট্রপতি হবার যোগ্যতা কি কি ?
রাষ্ট্রপতি হবার যোগ্যতাঃ
৪৮() নং ধারা অনুযায়ী যোগ্যতাঃ
কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
() পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা
() সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন; অথবা
() কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হইতে অপসারিত হইয়া থাকেন।
সুতরাং রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কোন নাগরিককে রাষ্ট্রপতি হতে হলে তাঁর বয়স কমপক্ষে .৩৫ বছর হতে হবে, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হতে হবে এবং সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হওয়া যাবে না
) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কার্যাবলীঃ
অনুচ্ছেদ সমূহঃ {৩০, ৪৮(), ৪৯, ৫১(), ৫৫(),৬১, ৭২, ৮০, ৯৩, ৯৪, ১১৮(), ১৩৮(), ১৪১(),১৪২, ১৪৫, ১৪৮}
* রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের () দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ৯৫ অনুচ্ছেদের () দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করেছেন কি না এবং করে থাকলে কি পরামর্শ দান করেছেন, তা কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবে না।
* প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি নিম্নোক্ত কার্যাবলী করে থাকে -
৩০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন নাগরিক কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নিকট হতে কোন উপাধি, খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবে না। (বিদেশী সম্মানলাভে রাষ্ট্রপতির অনুমতি )
৪৯ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন অধিকার রয়েছে
৫১() নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না
৫৫ () নং অনুচ্ছেদ অনুসারে যাবতীয় নির্বাহী কাজ রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
৬১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হবে
৭২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন।
৮০() নং অনুচ্ছেদ অনুসারে আইন প্রণয়নে রাষ্টপতির মতামত প্রয়োজন (সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে)
৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন
৯৪ নং ধারা অনুসারে বিচার পতি নিয়োগকরতে পারবেন
১৪১ নং অনুচ্ছেদ অনুসার প্রত্যেক কমিশন রাষ্ট্রপতির নিকট বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করবেন
১৪১ () () () নং অনুচ্ছেদ অনুসারে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান সংশোধনের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রযোজন
১৪৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বৈদেশিক চুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির অনুপতি প্রয়োজন
১৪৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন

No comments:

Post a Comment