দ্য আলকেমিস্ট - Jobs Study

Reliable and trusted site, most common questions for competitive exam-BCS Exam Preparation, Bank Exam Preparation, Govt Job Preparation, Private Jobs, NTRCA Exam Question Solution, University Admission Question, Non Cadre Exam Preparation, Primary School Teacher Exam Questions and Answer.

https://www.toprevenuegate.com/uy05hjthep?key=787ad49ab5c48d1e4b289e61ff5d6eae

Saturday, May 18, 2019

দ্য আলকেমিস্ট


বই পড়া ভারি মজা-

বইয়ের নামঃ দ্য আলকেমিস্ট
লেখক: (পাওলো কোয়েলহো)
এই বইয়ের কালজয়ী উক্তি 
যখন তুমি কিছু পাবার জন্য চেষ্টা করবে তখন পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তা পাই দিতে ফিসফাস করবে।"“বাযখন তুমি মন থেকে কিছু চাও, পুরো বিশ্ব তা পেতে তোমাকে সাহায্য করবে
ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহো' মাস্টারপিস "দ্য আলকেমিস্ট" উপন্যাসটার জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। দ্যাট' গ্রেট! অত্যন্ত সাধারণ কাহিনীর মধ্য দিয়ে অসাধারণ দার্শনিকতা, জীবনের দিক নির্দেশনা চমৎকারভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন।
বইটির শুরু হয় সান্তিয়াগো নামে এক স্প্যানিশ রাখালবালককে নিয়ে। তার বাবা মার ইচ্ছা ছিল তাকে পুরোহিত বানানোর, কিন্তু ভ্রমণ করা আর জগৎ সম্পর্কে জানার প্রবল ইচ্ছার কারণে সান্তিয়াগো ১৬ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে মেষপালক হিসেবে নিজের জীবন কাটানো শুরু করে। একরাতে সে স্বপ্নে দেখতে পায় এক বালক এসে তার মেষগুলোর সাথে খেলা করে এবং একসময় তার হাত ধরে তাকে পিরামিড এর কাছে নিয়ে রত্নভান্ডার এর হদিস দেয়। সান্তিয়াগো এর ব্যাখা জানার জন্য এক জিপসি গণক মহিলার কাছে যায়। সে যে ভুল স্বপ্ন দেখেনি এক-দশমাংশ গুপ্তধনের বিনিময়ে এটা নিশ্চিত করে মহিলা গণক। তিনি তাকে রত্নলাভের জন্য মিশরের পিরামিড এর কাছে যাওয়ার উপদেশ দেন। সালেমের ছদ্মবেশী রাজাও তাকে এবিষয়ে নিশ্চিত করে। তিনিও তাকে উজ্জীবিত করেন মিশরে যাওয়ার জন্য।

মেলচিজেডেক নামক ওই বৃদ্ধ তাকে মানুষের জীবন, জীবনের লক্ষ্য নিয়ে অধিবিদ্যক জ্ঞান দেন, আর দেন ইউরিম আর থেম্মিম নামক দুইটা পাথর। তিনি বলেন যে যখন কেউ তার জীবনের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে, পুরো বিশ্ব তাকে সাহায্য করে। অবশেষে সান্টিয়াগো তার ভেড়ার পাল বিক্রি করে দিয়ে পিরামিডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।
সান্টিয়াগো প্রথমে আফ্রিকা যায় কিন্তু তাঞ্জানিয়া এসে গাইডের বিশ্বাসঘাতকতায় সব অর্থ হারায় বিপদে পড়ে যায়। সাময়িকভাবে ভেঙে পড়লেও সে আবার ঘুরে দাঁড়ায় অর্থের অভাবে কোথাও যেতে না পারায় সে একবছর সেখানের পাহাড চূঁডায় এক রত্নের দোকানে কাজ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সে চিন্তা করে আবার তার দেশে ফিরে মেষপালক হবে। কিন্তু রাস্তায় বের হলে সেই বৃদ্ধের কথা তার মনে পড়ে যায়। সে এক কাফেলার সাথে মিশর যাত্রা করে। সেখানে দু' বছর বয়স্ক এক ইংরেজের সাথে পরিচয় হয় যে কিনা মিশরে এক আলকেমিস্টকে খুঁজতে যাচ্ছে অনেক রহস্য জানার জন্য। যুদ্ধের কারণে এক মরুদ্যানে কাফেলাটি আশ্রয় নেয় যেখানে সান্তিয়াগো ফাতেমা নামক মেয়ের প্রেমে পড়ে যায়।
এরমধ্যে সান্টিয়াগো লক্ষণ দেখে মরূদ্যানের নেতাদের জানায় যে সেখানে হামলা হবে। নিয়মানুযায়ী সেখানে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও যখন দেখা গেলো যে সত্যি হামলা হয়েছে, তখন সবাই সান্টিয়াগো-কে সাদরে গ্রহণ করে নেয় এবং তাঁকে উপদেষ্টা হবার আহ্বান জানায়। কিন্তু ইতোমধ্যে সান্টিয়াগো দেখা পায় সেই এলকেমিস্টের।
মূলত আলকেমিস্টরা পৃথিবীর আত্মা তারা তামাকে সোনা বানাতে পারে , পৃথিবীর রহস্য বুঝতে পারে বলতে পারে
এরপরে এলকেমিস্টের সহযোগিতায় সে পা বাড়ায় মরুভূমির পথে, তার গুপ্তধন, তার লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে। এবং সর্বশেষে দেখা যায় যে সান্টিয়াগো তার গুপ্তধন উদ্ধার করে সেখান থেকে, যেখানে তার মন পরে আছে। সান্টিয়াগো তার গুপ্তধন পায় সে- ভাঙা গির্জার মধ্যে, সেখানে শুয়ে সে স্বপ্ন দেখেছিলো গুপ্তধনের।
পুরো বইতে জীবনদর্শনের নানা দিক দেখা যায়। পাওলো কোয়েলহো রচিত বইটির মূল কথা এক কথায় বললে বলতে হবে,
যখন তুমি মন থেকে কিছু চাও, পুরো বিশ্ব তা পেতে তোমাকে সাহায্য করবে
বইটির বিভিন্ন পর্যায়ে অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন উক্তি পাওয়া যায়। যে কোন মানুষের জীবন পরিবর্তনে বইটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বইটির আরেকটি উক্তি হচ্ছে
প্রত্যেক ব্যক্তি- পৃথিবীর ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভূমিকা পালন করে যা অনেকসময় সে নিজেও জানে না
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে লেখক প্রত্যেক স্বতন্ত্র ব্যক্তিসত্তাকে- গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন। অনেকাংশে উপন্যাসটিকে আধ্যাত্মিক বলে মনে হলেও মানুষের বাস্তব জীবনকে আরো সুন্দর অর্থবহ করে তোলায় বই- বিভিন্ন বাণী বা উক্তি প্রয়োগযোগ্য।
বইটি কেবল অনুপ্রেরণামূলকই নয়, একে একটি অনবদ্য দার্শনিক উপন্যাসও বলা যায়। বইটির বিভিন্ন উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে দার্শনিক তত্ত্ব। উপন্যাসে জীবন-জগত প্রেম সম্পর্কিত আলোচনা দেখা যায়। জ্ঞান-তাত্ত্বিক, অধিবিদ্যক নন্দনতাত্ত্বিক বিভিন্ন বক্তব্য স্থান পেয়েছে উপন্যাসে। উপন্যাসে সর্বেশ্বরবাদী মতবাদের প্রভাব লক্ষণীয়। উপন্যাসে বিশ্ব-আত্মা বা পরম আত্মার উপস্থিতি স্বীকার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে জীবাত্মা বিশ্ব-আত্মার অংশ এবং হৃদয়ের মাধ্যমে দুই আত্মা সম্পর্কিত উপন্যাসে লেখক একটি সার্বিক ভাষার কথা বলেন যে ভাষায় বিশ্ব-আত্মা, প্রকৃতির আত্মা- প্রভৃতি ভাবের আদানপ্রদান করে। মানুষ তার অজ্ঞতার কারণে ভাষা বুঝতে পারে না। প্রেম বা ভালবাসা- ভাষা ভাষা। তাই প্রেম এমন একটি বিষয় যা বিশ্ব-আত্মা থেকে নিঃসৃত। ভালবাসার জন্য কোন যুক্তির দরকার হয় না। মানুষ ভালবাসে কারণ মানুষ ভালবাসে। জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে উপন্যাসে বলা হয়েছে যে বিশ্বের সবকিছুর লক্ষ্য আছে। সবকিছু নিজেকে উন্নততর পর্যায়ে উন্নীত হয় এবং নতুন লক্ষ্য অর্জন করে। ধারা বিশ্ব আত্মার সাথে একীভূত হওয়া পর্যন্ত ক্রম-বিকাশমান। প্রেম হচ্ছে সেই শক্তি যা বিশ্ব আত্মাকে পরিবর্তিত বিকশিত করে।দ্য আলকেমিস্টউপন্যাসে প্রেমকে দেখা হয়েছে একটি অনবদ্য শক্তি হিসেবে যে শক্তির বলে আত্মার উন্নয়ন ঘটে।
ভাষাগত দিক থেকেদ্য আলকেমিস্টবইটি অনেক সহজ, সাবলীল সহজবোধ্য। বইটির ভাষাশৈলী, লেখনী কৌশল বক্তব্য যেকোনো শ্রেণীর পাঠকের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম। বইটির ইংরেজি অনুবাদ এতটাই বোধ্য যে, যে কেউই লেখা বুঝতে সক্ষম হবে। বইটি কোয়েলহো লিখেছিলেন মাত্র দুসপ্তাহে কারণ তার মতে বক্তব্যগুলো ইতোমধ্যে তারআত্মায় লিখিতছিলো।


No comments:

Post a Comment